
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: ঝাড়গ্রামে নির্বাচনী প্রচারের ফাঁকে এক ব্যতিক্রমী মুহূর্তের সাক্ষী থাকল সাধারণ মানুষ। ভিনরাজ্য থেকে এসে ঠেলাগাড়িতে ব্যবসা শুরু করা বিক্রমকুমার সাউ আজ স্থানীয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। জানা গিয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর উদ্যোগে তিনি একটি পাকা দোকানঘর পান। রবিবার প্রচার সেরে ঝাড়গ্রামের কলেজ মোড় এলাকায় ওই দোকানেই হঠাৎ থামেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানে ‘ঝালমুড়ি ব্রেক’ নেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের পর থেকেই বিক্রমকুমার সাউ রাতারাতি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে এবং রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে নানা জল্পনা।
বিক্রমের আদি বাড়ি বিহারের গয়ায়। বেশ অল্প বয়সেই বাংলায় চলে আসেন। ব্যবসা ঝাড়গ্রামে। স্টেশনপাড়ায় বাড়ি। কলেজ মোড়ে ঝালমুড়ি, ছোলা ভাজা, বাদাম ভাজা, চালভাজার দোকান। প্রথমে ঠেলাগাড়িতে ব্যবসা করতেন। পরে কলেজ মোড়ে একটি ছোট্ট গুমটি ভাড়া নেন। রাস্তা সম্প্রসারণের সময় প্রায় সব গুমটিই ভাঙা পড়ে। মাথায় হাত পড়ে ব্যবসায়ীদের। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বারস্থ হন। পুনর্বাসনের আর্জি জানান ব্যবসায়ীরা। ফিরিয়ে দেননি মুখ্যমন্ত্রী। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ৫৪ জন ব্যবসায়ীকে দোকানঘরের ব্যবস্থা করে দেন। তার মধ্যেই ছিলেন বিক্রম।

রবিবার পড়ন্ত বিকেলে কনভয় থামিয়ে বিক্রমের ঝালমুড়ির দোকানের সামনে দাঁড়ান নরেন্দ্র মোদি। হঠাৎ দোকানে মোদিকে দেখে কিছুটা হকচকিয়ে যান দোকানের মালিক। ঘোর কাটতে কিছুটা সময় লেগেছে সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। তা সত্ত্বেও মোদির পছন্দমতো পিঁয়াজ দিয়ে মুড়ি মেখে দেন। বিক্রম বলেন, “উনি এসে প্রথমে আমার সঙ্গে আলাপ করেন। আমার নাম, বাবার নাম, ঠিকানা জানতে চান। তারপরই বলেন ঝালমুড়ি বানাতে। ঝালমুড়ির ঠোঙা হাতে নিয়ে নিজে খেলেন এবং সেখানে উপস্থিত অন্যদেরও খাওয়ালেন।” মুড়ির দাম হিসাবে ১০ টাকাও দেন তিনি।
ঠোঙা থেকেই মুড়ি ঢেলে হাতে হাতে উপস্থিত সকলকে দেন মোদি। এমন দৃশ্য দেখে কার্যত আপ্লুত স্থানীয় মহিলা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ। সেখানে উপস্থিত কণিকা মাহাতো ও কল্যাণী মাহাতোরা বললেন, “এমন ঘটনা চোখের সামনে কখনও দেখব তা ভাবতেই পারিনি। দেশের প্রধানমন্ত্রী তিনি। কী সহজভাবে নিজে ঝালমুড়ি খেলেন। যাঁরা সামনে ছিলেন তাঁদের হাতেও দিলেন। আমর সত্যি সত্যিই খুব খুশি।” উল্লেখ্য, প্রথম দফার ভোটের আগে শেষ রবিবার ঝাড়গ্রাম স্টেডিয়ামে বিজেপির চার প্রার্থীর সমর্থনে প্রচারসভা করেন নরেন্দ্র মোদি। সেই প্রচারসভা শেষে গাড়ি করে হেলিপ্যাড স্থলে যাওয়ার সময়ই তিনি ওই ঝালমুড়ির দোকানে দাঁড়ান।
