
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর যেন এক ক্ষুদ্র ভারত। মুসলিম, খ্রিস্টান, শিখ, জৈন, সিন্ধি, বিহারি ও গুজরাটি—বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সহাবস্থানে গড়ে উঠেছে এই এলাকা। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায়, আগামী ২৯ এপ্রিল এই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে।
বরাবরের মতো এই কেন্দ্র থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যজুড়ে প্রচার পর্ব সেরে এবার নিজের কেন্দ্রের প্রচারে মন দিয়েছেন তিনি। রবিবার সন্ধ্যায় ভবানীপুরের লেডিজ পার্কে জনসংযোগ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন তিনি। তাঁদের মতামত শোনার পাশাপাশি সর্বধর্ম সমন্বয়ের বার্তাও তুলে ধরেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পেয়ে তাঁরা উৎসাহিত। অনেকেই তাঁর জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী বলেও মত প্রকাশ করেছেন।
রবিবার থেকে ভবানীপুরের প্রচার শুরু করে বেশ অভিনবত্ব এনেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। লেডিজ পার্কে জনসংযোগের পাশাপাশি পাশের আবাসনগুলিতে ঢুকেও বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। গত ৫ বছরে তাঁর নিজের কাজের পারফরম্যান্স তুলে ধরেছেন, আরও কীভাবে উন্নত পরিষেবা দেওয়া যায়, ভোটারদের কাছে সেই মতামত জানতে চেয়েছেন। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, কোনও কাজ অসম্পূর্ণ থাকলে কিংবা কোথাও ভুল বোঝাবুঝি হলে তার জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন দলনেত্রী।
এ প্রসঙ্গে তিনি রুফটপ রেস্তরাঁ বন্ধ নিয়েও কথা বলেন। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপচারিতার সময়ে মমতা বলেন, “রুফটপ রেস্তরাঁ নিয়ে আপনারা আমায় ভুল বুঝেছিলেন। আমি কখনও চাইনি, আপনাদের ব্যবসার কোনও ক্ষতি হোক। আমি নিজে ১৪ তলায় বসি। ভূমিকম্প হলে ঘর কাঁপে। তখন কী পরিস্থিতি হয় সেটা বুঝি। তাই নিরাপত্তার খাতিরেই ববিকে (ফিরহাদ হাকিম) বলেছিলাম, নতুন করে প্ল্যান করতে। নির্দিষ্ট একটা নিয়ম করতে। আপনাদের কারও ব্যবসার ক্ষতি হোক আমি কখনও চাইনি। তেমন হয়ে থাকলে আমি ক্ষমাপ্রার্থী।”
