
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: ছোটদের টিফিন নিয়ে যেমন মায়েদের চিন্তার শেষ নেই, তেমনই বড়দের টিফিনও অনেক সময় হয়ে ওঠে একঘেয়ে। প্রতিদিন একই ধরনের খাবার—রুটি-তরকারি, স্যান্ডউইচ বা দই-ওটস—খেতে খেতে স্বাদ যেমন ফিকে হয়ে যায়, তেমনই শরীরও পায় না প্রয়োজনীয় বৈচিত্র্য। অথচ ব্যস্ত কর্মদিবসে সুস্থ ও চাঙ্গা থাকতে টিফিনে পুষ্টি এবং স্বাদের সমন্বয় জরুরি। সকালের তাড়াহুড়োয় অনেকেই সহজ সমাধান বেছে নেন, কিন্তু সামান্য পরিকল্পনা করলেই টিফিন হতে পারে আরও আকর্ষণীয়। যেমন,
১। সুইটকর্ন-পনির স্যালাড: সুইটকর্ন ছোট-বড় সকলেরই পছন্দের। সম্ভব হলে জল ঝরানো টক দই, আদা-রসুন বাটা, রোস্ট করা বেসন, নুন, লঙ্কাগুঁড়ো, টিক্কা মশলা এবং সর্ষের তলে দিয়ে একটি মিশ্রণ বানিয়ে পনিরের টুকরো তাতে মাখিয়ে রাতভর ফ্রিজে রেখে দিন। যদি হাতে সময় না থাকে কড়াইয়ে অল্প মাখন দিয়ে সুইটকর্ন এবং নুন, লঙ্কা মাখানো পনির অল্প আঁচে হালকা করে ভেজে নিন। এর মধ্যে লেটুস, লঙ্কা, পেঁয়াজ কুচি, লেবুর রস, গোলমরিচ মাখিয়ে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে স্যালাড। এর সঙ্গে আলাদা করে নিন পছন্দের একটি ফল।
২। লেমন রাইস: তালিকায় রাখতে পারেন লেমন রাইস। হালকা টক স্বাদের পাতিলেবুর রস দেওয়া খাবারটি অরুচির মুখে স্বাদ ফেরায়। কড়াইয়ে তেল দিয়ে শুকনোলঙ্কা, সর্ষে, কারিপাতা ফোড়ন দিন। আদা কুচি যোগ করে দিয়ে দিন অল্প হলুদ এবং সামান্য লঙ্কার গুঁড়ো। এবার ঝরা ভাত দিয়ে নাড়াচাড়া করে নিন। যোগ করুন স্বাদ মতো নুন। উপর থেকে ছড়িয়ে দিন পাতিলেবুর রস এবং গ্রেট করে নেওয়া পাতিলেবুর খোসার উপরিভাগ। এর সঙ্গে নিতে পারেন রায়তা কিংবা ঝাল কষা আলুরদম।
৩। কাবলি ছোলা: কাবলি ছোলা প্রোটিনে ভরপুর। ছোলা নুন-হলুদ দিয়ে সেদ্ধ করে নিতে হবে। কড়াইয়ে তেল দিয়ে পেঁয়াজ অল্প ভেজে, টম্যাটো দিয়ে কষিয়ে সেদ্ধ কাবলি ছোলা একটু জল-সহ রান্না করে নিন। উপর থেকে ভাজা মশলা গুঁড়ো ছড়িয়ে দিন। যোগ করুন পাতিলেবুর রস। শুধুই খাওয়া যায় এটা। এর সঙ্গে নিতে পারেন পরোটাও। ১০ মিনিটে রাঁধতে হলে কিছু প্রস্তুতি আগাম করে রাখা যায়। যেমন কাবলি ছোলা আগের রাতেই সেদ্ধ করে রাখতে পারেন। গত রাতের ফ্রিজে রাখা ভাত দিয়েই লেমন রাইস বানাতে পারেন। পনির টিক্কা খেতে চাইলে আগের রাতেই ম্যারিনেট করে নিতে পারেন।
অল্প একটু পরিকল্পনা আর নতুন কিছু চেষ্টা—এই দুইয়ে মিললেই অফিসের টিফিন হয়ে উঠতে পারে দিনের সবচেয়ে উপভোগ্য মুহূর্ত।
