
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলায় রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে বেকারত্ব ও চাকরি দুর্নীতির ইস্যুকেই প্রধান হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরছে ভারতীয় জনতা পার্টি। বৃহস্পতিবার হলদিয়ায় এক নির্বাচনী সভা থেকে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস-কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।তিনি ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর দেওয়া ‘ডবল ডবল চাকরি’-র প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ টেনে এনে অভিযোগ করেন, বাস্তবে তা পূরণ হয়নি। মোদির কথায়, “ডবল ডবল ধোঁকা দেওয়া হয়েছে রাজ্যের যুবসমাজকে।”তবে সমালোচনার পাশাপাশি আশ্বাসও শোনান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে এবং যুবসমাজের জন্য চাকরির পথ খুলে দেওয়া হবে।
একুশেই বাংলা দখলের ডাক দিয়েছিল বিজেপি। ফলাফল আগের তুলনায় ভালো হলেও লক্ষ্য পূরণ হয়নি। সরকার গঠন তো দূর-অস্ত, ৮০ এর গণ্ডিও পেরতে পারেনি বিজেপি। ছাব্বিশে যে কোনও মূল্য বাংলায় সরকার গড়তে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে পদ্মশিবির। দফায় দফায় রাজ্যে আসছেন মোদি-শাহ। বৃহস্পতিবার বাংলায় তিনটি নির্বাচনী সভা রয়েছে তাঁর। এদিন হলদিয়ার সভা থেকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি অস্ত্রে শান দিলেন প্রধানমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চাকরির আশ্বাস প্রসঙ্গ তুলে ধরে বললেন, “আপনাদের ডবল ডবল ধোঁকা দেওয়া হয়েছে। শিল্প নেই, কারখানা নেই, যুবসমাজ চাকরি পাচ্ছে না। বেসরকারি ক্ষেত্রে নিয়োগের জায়গাও নেই।” মোদি বলেন, বাংলার মানুষদের বঞ্চিত করে অনুপ্রবেশকারীদের চাকরি দিয়েছে এই তৃণমূল সরকার।
মঞ্চ থেকেই রাজ্যবাসীকে মোদির আশ্বাস, “বিজেপিশাসিত রাজ্যে রোজগার মেলা হয়। বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এলে এই রাজ্যেও রোজগার মেলা শুরু হবে। যুব সমাজ চাকরি পাবে।” তিনি আরও বলেন, “যার যা অধিকার, সেটাই দেবে বিজেপি। এটাই মোদির গ্যারান্টি।” বুঝিয়ে দিলেন, বাংলার মানুষকে ভরিয়ে দেবে বিজেপি সরকার।
তৃণমূলের অভিযোগ, খাদ্যভ্যাসও বদলানোর চেষ্টা করছে পদ্মশিবির। সে কারণেই মাছ, মাংস খাওয়ারও বিরোধিতা করছে বিজেপি। যদিও ভোটমুখী বাংলায় সে অভিযোগ খণ্ডনে ব্যস্ত পদ্মশিবির। এমনকী ভোটের প্রচারে প্রার্থীদের মাছ হাতে প্রচার করতে দেখা গিয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রচারের ফাঁকে খড়গপুর সদর বিধানসভা কেন্দ্রে একটি মাছবাজারে ঢুঁ মারতে দেখা গিয়েছে দিলীপ ঘোষকেও। এবার হলদিয়ায় দাঁড়িয়ে মোদির মুখেও মৎস্য আখ্যান! ‘মাছে ভাতে বাঙালি’র মন পেতে মাছের প্রসঙ্গ টেনে রাজ্যকে তোপ দাগলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাও আবার কিনা পূর্ব মেদিনীপুরে দাঁড়িয়েই। খতিয়ান তুলে ধরে মোদি বলেন, ”এত সুযোগ থাকা সত্ত্বেও এখানে মাছের উৎপাদনে এখনও পিছিয়ে রয়েছে বাংলা। অন্য রাজ্যের থেকে আমদানি করতে হয়।” এই প্রসঙ্গে বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলির প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রীর দাবি, বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলিতে মৎস্য উৎপাদন এখন বাড়ছে। বিহারে মৎস্য উৎপাদন দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু তৃণমূল সরকারের জন্য বাংলা ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ নরেন্দ্র মোদি। যদিও এর পালটা জবাব দিতে দেরি করেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মিনাখার প্রচার সভা থেকে তিনি বলেন, ”মৎস্য উৎপাদনে বাংলা স্বাবলম্বী। এখন আর অন্ধ্র থেকে মাছ আনতে হয় না।” এমনকী বাংলাতেই যে ইলিশের চাষ হচ্ছে তাও তুলে ধরেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
অন্যদিকে এদিন কেন্দ্রের স্কিমগুলোর সুবিধা তৃণমূলকে পেতে দিচ্ছে না বলেও সুর চড়ান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের জন্য পিএম মৎস্য সম্পদের লাভ পাননা বঙ্গের মৎস্যজীবীরা। উলটে স্কিমের নাম বদলাতে ব্যস্ত রাজ্য সরকার। তবে ক্ষমতায় এলে কেন্দ্রের সমস্ত স্কিম বাংলার মানুষ পাবেন বলে আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর।
