
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ কর্তার নন্দীগ্রাম সফর ঘিরে দানা বাঁধল রহস্য। সাধারণত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জেলা সফরে গিয়ে প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন, কিন্তু নন্দীগ্রামে তাঁর সঙ্গে বিজেপি নেতার উপস্থিতি নিয়ে শোরগোল শুরু হয়েছে। তৃণমূলের দাবি, এটি কেবল সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, বরং বিজেপির ব্লু-প্রিন্ট অনুযায়ী ভোটার তালিকায় হস্তক্ষেপের চেষ্টা। রাত পর্যন্ত কমিশন এই নিয়ে কোনও মুখ না খুললেও, নবান্ন ও রাজভবন সূত্রে এই অভিযোগের গুরুত্ব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনের আগে এই ধরণের অভিযোগ কমিশনের ভাবমূর্তির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে যখন নন্দীগ্রামের মতো স্পর্শকাতর এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠকে এদিন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও প্রাক্তন সাংসদ কুণাল ঘোষ ছবি দেখিয়ে কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অভিযোগ করেন, ‘‘নির্বাচন কমিশন কার্যত বিজেপির দলদাস হয়ে কাজ করতে মাঠে নেমে পড়েছে। বিজেপির সাংগঠনিক দুর্বলতা ঢাকতেই কমিশনের কিছু আধিকারিক সরাসরি পদ্ম শিবিরের হয়ে বেআইনি ভূমিকা নিচ্ছেন। বাংলায় মুখ্য নির্বাচনী অফিসার এর মধ্যে অন্যতম।’’
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী অফিসার রবিবার দুপুরে পৌঁছন নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের বঙ্কিম মোড়ে। গাড়ি থেকে নামতেই সাদা জামা, কালো প্যান্ট পরা ফর্সা এক প্রৌঢ় সেখানে চলে আসেন। সিইওকে নিয়ে যাওয়া হয় গড়চক্রবেড়িয়া গ্রামে। ওই প্রৌঢ়ের দেখানো একের পর এক বাড়িতে যান সিইও। পরে জানা যায়, সাদা জামা পরিহিত ওই প্রৌঢ়ের নাম তপনকুমার মহাপাত্র। বিজেপির কালীচরণপুর অঞ্চল কমিটির কনভেনার তিনি।’’ মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে ওই ব্যক্তির ছবি দেখিয়ে এদিন চন্দ্রিমা ও কুণাল প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘‘নির্বাচন কমিশনের এই আচরণ পুরোপুরি পক্ষপাতিত্বের পরিচয় বহন করছে। উনি নন্দীগ্রামে যেতেই পারেন, কিন্তু কেন বিরোধী শিবিরের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে ঘুরতে হবে?” জানা গিয়েছে, সিইও নন্দীগ্রামে গড়চক্রবেড়িয়া ২৩৭ নম্বর বুথে বাড়ি বাড়ি যাওয়ার সময় সঙ্গে ছিলেন মনোজের সঙ্গে ছিলেন ওই বুথের বিজেপির সভাপতি রামপদ নায়েকও।
এদিন তৃণমূলের আরও অভিযোগ, একদিকে লক্ষ লক্ষ বৈধ ভোটারের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে ভিন রাজ্যের বিজেপি কর্মীদের বাংলার ভোটার তালিকায় যুক্ত করার চেষ্টা চলছে। আর নন্দীগ্রাম সফরে গিয়ে বিজেপির দলদাস হয়ে গেরুয়া শিবিরের দেখানো পথেই হাটছেন কমিশনের আধিকারিকরা। যদিও বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী জানান, ‘‘২০২১ সালের নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর তপন মহাপাত্রর উপর হামলা হয়, তা নিয়ে সিইও-কে অভিযোগ করছিলেন।’’পরে এই নিয়ে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেছে তৃণমূল। তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও ব্রায়ের দাবি, সিইওর এই আচরণ পক্ষপাতমূলক, এবং শাস্তিযোগ্য। এই পক্ষপাতমূলক আচরণ ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারে। তাই তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
