
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: রাস্তার লড়াই এবার ব্যালট বক্সে, কিন্তু বাধার মুখে অভয়ার মা। পানিহাটিতে প্রচারের সময় তৃণমূলের হাতে হেনস্তা ও মারধরের চেষ্টার অভিযোগ তুললেন বিজেপি প্রার্থী। তাঁর সাফ কথা, 'মেয়ের বিচারের জন্য পথে নেমেছিলাম, এবার পানিহাটির মানুষের অধিকারের জন্য লড়ছি। তৃণমূল ভয় পেয়ে আমায় আটকানোর চেষ্টা করছে।' আবেগঘন গলায় তিনি হুঙ্কার ছেড়েছেন, ‘আমায় মারধর করে দাবিয়ে রাখা যাবে না, আমি শেষ দেখে ছাড়ব।’
বুধবার পানিহাটির ৬ নম্বর ওয়ার্ডে প্রচারে বেরন অভয়ার মা। অভিযোগ, সেই সময় হেনস্তার শিকার হন তিনি। বিজেপি কর্মী সঙ্গীতা নন্দী বলেন, “একদল মহিলা ছিল। ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেয়। কিছুটা এগনোর পর ৩০-৩৫ জন মহিলা ছিলেন। ফুল ছিটিয়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেয়। অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে। ঘুষি মারতে যায়। আমার লেগেছে। আমার মেয়েদের লেগেছে। অনেকেই জখম হয়েছেন। ওরা প্রার্থীকে মানসিকভাবে ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু পারেনি। আমাদের প্রার্থী মানসিকভাবে শক্ত। উনি হারবেন না। জিতবেন।”
অভয়ার মায়ের দাবি, “তৃণমূল দুষ্কৃতীরা আমাকে মারধরের চেষ্টা করেছে। আমার বিশেষ লাগেনি। কর্মীদের লেগেছে। আমি চাই না ভোটের সময় এসব করা হোক। ভয় পেয়ে তৃণমূল দাঁত, নখ বার করেছে। আমার মেয়েকে মেরে ক্ষান্ত হয়নি। এবার ভাবছে আমাকে মারবে। হয়তো ভাবছে তাহলে বিচার চাওয়ার আর কেউ থাকবে না।” অভয়ার মায়ের হুঙ্কার, “বাংলার সব মেয়েরা যাতে সুরক্ষিত থাকে, তার জন্য আমি লড়াই করে যাব। শেষ দেখে ছাড়ব।” পালটা তৃণমূল প্রার্থী তীর্থঙ্কর ঘোষের অভিযোগ, বহিরাগতদের নিয়ে প্রচার করছিলেন অভয়ার মা। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার-সহ নানা প্রকল্পের সুযোগ সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে বলেছেন। সে কারণে স্থানীয়রা ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিবাদ করেছে বলেই দাবি তাঁর।
গত ২০২৪ সালের আগস্টে আর জি কর হাসপাতালের সেমিনার হল থেকে তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার হয়। তার প্রতিবাদে গোটা রাজ্য জুড়ে আন্দোলনের ঝড় আছড়ে পড়ে। নিহত চিকিৎসকের মা-ই এবার পানিহাটির বিজেপি প্রার্থী। রাজনৈতিক মহলের মতে, এর আগের বেশ কয়েকটি নির্বাচনে তেমন আশানুরূপ ফল করতে পারেনি বিজেপি। ছাব্বিশের নির্বাচন তাদের কাছে ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচের মতো। জিততে তাই আর জি কর আবেগে শান দিতে চাইছে বিজেপি। সে কারণে প্রার্থী বাছাইয়ে এমন চমক। অভয়ার মা ভোটে লড়ার পর থেকেই বারবার বিতর্কের মুখে পড়েন। সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কার্যত প্রাণনাশের হুমকিও দেন। তা নিয়ে জলঘোলাও কম হয়নি। এবার ভোটপ্রচারে বেরিয়ে হেনস্তার অভিযোগ তুললেন অভয়ার মা। নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করবেন বলেই জানান তিনি।
