West Bengal

1 hour ago

Mamata Banerjee : চৈত্র সেলের সঙ্গে গণতন্ত্রের তুলনা! বিজেপিকে তোপ মমতার, কড়া বার্তা ভোটারদের

Mamata Banerjee
Mamata Banerjee

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: হাড়োয়ার সভা থেকে রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্ট করে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এসআইআর থেকে শুরু করে ভিনরাজ্যে বাঙালিদের উপর অত্যাচারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি সরাসরি ভারতীয় জনতা পার্টি-র বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।তাঁর বক্তব্যের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক ছিল ‘গণতন্ত্র’ প্রসঙ্গ। “গণতন্ত্রকে চৈত্র সেলের মতো বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে”—এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি কেন্দ্রীয় শাসনের ওপর তীব্র আক্রমণ শানান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের ভাষা ব্যবহার করে তিনি সাধারণ মানুষের আবেগে নাড়া দেওয়ার চেষ্টা করছেন, বিশেষ করে নির্বাচনকে সামনে রেখে।এরপর তাঁর হুঁশিয়ারি—“বাংলার মানুষ ক্ষমা করবে না”—স্পষ্টতই রাজনৈতিক লড়াইকে আরও তীব্র করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ফলে আসন্ন নির্বাচনে এই ইস্যুগুলি বড় ভূমিকা নিতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে মিনাখাঁর সভা থেকে মমতা বলেন, আগে ইলিশের জন্য বাংলাদেশ ও হায়দরাবাদের দিকে তাকিয়ে থাকতে হত। কিন্তু বর্তমানে মাছ উৎপাদনে বাংলা সাবলম্বী।

বৃহস্পতিবার হলদিয়ার সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অভিযোগ করেন, বাংলায় মাছের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও এখনও মৎস্য প্রতিপালনে আত্মনির্ভর নয় রাজ্য। এখনও পর্যন্ত অন্য রাজ্য থেকে বাংলায় মাছ আমদানি করতে হয়। ভারতে মাছ উৎপাদন ১১ বছরে দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু তৃণমূল সরকারের কারণে বাংলা সেই সফলতা পায়নি। প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের জন্য পিএম মৎস্য সম্পদের লাভ পান না বঙ্গের মৎস্যজীবীরা। উলটে স্কিমের নাম বদলাতে ব্যস্ত রাজ্য সরকার। তবে ক্ষমতায় এলে কেন্দ্রের সমস্ত স্কিম বাংলার মানুষ পাবেন বলে আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর।

যদিও মোদির এই সব অভিযোগ কার্যত খণ্ডণ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, আগে বাংলায় খুব বেশি ইলিশ মাছ পাওয়া যেত না। বর্তমানে ডায়মন্ড হারবারে রিসার্চ সেন্টারে গবেষণার মাধ্যমে বাংলাতেই প্রচুর পরিমাণে ইলিশ মাছ উৎপাদন হয়। আগে ইলিশের জন্য বাংলাদেশের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হত। চাহিদা পূরণের জন্য হায়দরাবাদের দিকে তাকিয়ে থাকতে হত। কিন্তু এখন মাছ উৎপাদনে বাংলা সাবলম্বী হয়েছে। চুনোপুঁটি মাছ সংরক্ষণের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। এছাড়াও মৎস্যজীবীদের সুবিধার্থে আলাদা কার্ড করে দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, আমিষ খাবার বিতর্কে বারবার নাম জড়িয়েছে বিজেপির। তৃণমূলের অভিযোগ, বাংলায় ক্ষমতায় এলে বঙ্গবাসীর খাদ্যভ্যাস বদলে দেবে পদ্মশিবির। তারা মাছ, মাংস খাওয়ার বিরোধী। যদিও ভোটমুখী বাংলায় সে সব অভিযোগ খণ্ডনে ব্যস্ত পদ্মশিবির। এমনকী ভোটের প্রচারে প্রার্থীদের মাছ হাতে প্রচার করতে দেখা গিয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রচারের ফাঁকে খড়গপুর সদর বিধানসভা কেন্দ্রে একটি মাছবাজারে দেখা গিয়েছে দিলীপ ঘোষকেও। এবার হলদিয়ায় দাঁড়িয়ে মোদির মুখেও শোনা গেল মৎস্য আখ্যান! নিজেদের উপর থেকে ‘আমিষ-বিরোধী’ তকমা দূর করতে ভোটমুখী বাংলায় ব্যাপকভাবে তৎপরতা শুরু করেছে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব।

You might also like!