
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: গত ২৯ মার্চ রবিবার হঠাৎই অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর মৃত্যুসংবাদে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে গোটা টলিউড ইন্ডাস্ট্রি। তবে তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে শুরু থেকেই তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্যে অসঙ্গতি থাকায় প্রশ্ন উঠছে একাধিক দিক নিয়ে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে উঠে এসেছে, প্রায় এক ঘণ্টা জলের নিচে ছিলেন রাহুল। দীর্ঘক্ষণ জলের তলায় থাকার ফলে ফুসফুস এবং শরীরের অন্যান্য অঙ্গে ঢুকে যায় নোনা জল এবং প্রচুর বালি। ফুসফুস ফুলে দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ার কারণে খুব স্বাভাবিকভাবেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে রাহুল।
এই ঘটনার পর থেকেই সরব হয়ে উঠেছে টলিউডের শিল্পী মহল। প্রযোজনা সংস্থার দায় নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের দাবিও জানানো হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়-এর বাসভবনে ডাকা হয় এক জরুরি বৈঠক। সেখানে আর্টিস্ট ফোরামের সদস্যদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার-ও। বৈঠকে রাহুলের মৃত্যুর সঠিক তদন্ত এবং পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের দাবি তোলা হয়। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই কঠিন সময়ে রাহুলের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে পুরো ইন্ডাস্ট্রি। বিশেষ করে প্রিয়াঙ্কা সরকার-এর পাশে সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন সহকর্মীরা।

এদিকে পরিবারের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। ছেলেকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন রাহুলের মা, আর এই আকস্মিক ঘটনায় স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে তাঁর সন্তানও। এই শোক কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে বলেই মনে করছেন অনেকে। প্রসঙ্গত, রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় স্টার জলসার অন্যতম ধারাবাহিক ‘ভোলেবাবা পার কারেগা’ শ্যুটিংয়ের জন্য তালসারিতে গিয়েছিলেন। শ্যুটিং চলাকালীনই ঘটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। আপাতত বন্ধ রয়েছে ধারাবাহিকের শুটিং, ফলে এর ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
