West Bengal

47 minutes ago

Abhishek Banerjee : ‘৪ তারিখে দিল্লির কোন বাবা বাঁচাবে’, অভিষেকের মন্তব্যে আদালতে উত্তেজনা, বিচারপতির কড়া ভর্ৎসনা

Abhishek Banerjee and amit saha
Abhishek Banerjee and amit saha

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:আরামবাগের এক নির্বাচনী সভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ইঙ্গিত করে করা মন্তব্য ঘিরে বিতর্কে জড়ান তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় । ওই মন্তব্যের জেরে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়। পরে সেই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য অভিষেকের মন্তব্য নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।তিনি বলেন, “৪ তারিখ যদি ভোটের ফল অন্য হত, তাহলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যেতে পারত।” তবে বিরক্ত হলেও ৩০ জুলাই পর্যন্ত তাঁকে রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছে। তবে বেঁধে দেওয়া হয়েছে। আপাতত বিদেশে যেতে পারবেন না তিনি।

ঘটনার সূত্রপাত ২৭ এপ্রিল। ওইদিন ভোটপ্রচারে আরামবাগ গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে তিনি বলেছিলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদার। আমি উদার নই। এবার বিষয়টা আমি দেখে নেব। ৪ মে ১২ টার পর দেখব দিল্লির কোন বাবা বাঁচায়।” তবে শুধু একবার নয়, ভোটপ্রচারে বারবার বেলাগাম হয়েছেন অভিষেক। ফলতায় প্রচারে গিয়ে বলেছিলেন, “জাহাঙ্গির বলেছে, একটা বৈদ্যুতিন চুল্লি বানিয়ে দিতে। ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর তো অনেকের হার্ট ফেল হবে।” তার ডিজে মন্তব্যও বিতর্ক তৈরি করেছিলেন। পালাবদল হতেই আরামবাগের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিধাননগর কমিশনারেটের সাইবার ক্রাইম শাখায় দায়ের হয় এফআইআর। এরপরই রক্ষাকবচ চেয়ে হাই কোর্টে যান অভিষেক। বৃহস্পতিবার ছিল সেই মামলার শুনানি। সেখানেই বিচারপতি প্রশ্ন করেন, একজন ৩ বারের সাংসদ, উচ্চপদস্থ ব্যক্তি কীভাবে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করেন। তাঁর এমন মন্তব্যের প্রয়োজনীয়তা কী সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। এরপরই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “শাহও তো অনেক কিছু বলেন।” এরপরই বিচারপতি বলেন, “৪ মে যদি ভোটের ফল অন্যরকম হত, তাহলে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারত।”

এরপর বিচারপতি বলেন, মানুষ ভালোর কথা ভেবেই ২০১১ য় পরিবর্তন এনেছিল।  পালটা কল্যাণ বলেন, মানুষ ২০২৬ এও ভালোর কথাই ভেবেছে। এরপর বিচারপতি ভট্টাচার্য বলেন, “সেটা সময় বলবে।” মামলা চলাকালীন চূড়ান্ত বিরক্ত প্রকাশ করলেও অভিষেককে রক্ষাকবচ দিয়েছেন বিচারপতি। তবে বেঁধে দেওয়া হয়েছে একাধিক শর্ত। বলা হয়েছে, তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে এবং তা সশরীরে হাজিরা দিয়ে। যেতে পারবেন না বিদেশে। তবে ভারচুয়ালি হাজিরার অনুমতি চাইলেও আদালত তা মঞ্জুর করেনি। পাশাপাশি তাঁকে তলবের ক্ষেত্রে ৪৮ ঘণ্টা আগে নোটিস দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে আদালত। 

You might also like!