Game

1 hour ago

FIFA World Cup 2026: হাইতির বিশ্বকাপ দলে ১০ জন দেশের ফুটবলার, বাকি খেলোয়াড়রা প্রবাসী

Haiti coach Sebastien Migne
Haiti coach Sebastien Migne

 

কলকাতা, ২১ মে : ক্যারিবীয় অঞ্চলের তৃতীয় বৃহত্তম দেশ হাইতি। ৫২ বছর পর এই দলটা বিশ্বকাপে ফিরেছে। কয়েক দিন আগে ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে তারা। ঘোষণার সময় ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্রটির কোচ সেবাস্তিয়ান মিগনে বলেছেন, 'আগামী বিশ্বকাপে আমাদের লক্ষ্য নকআউটে খেলা।' এই লক্ষ্যে কোচের ভরসা এক ঝাঁক প্রবাসী ফুটবলার। তাদের অর্ধেকেরও বেশি ফুটবলারের জন্ম ফ্রান্সে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র কানাডা ও সুইজারল্যান্ডের জন্ম নেওয়া খেলোয়াড়রাও আছেন। হাইতির ২৬ জনের স্কোয়াডের মাত্র ১০ জন দেশটিতে জন্মগ্রহণ করেছেন। শুধু তাই নয়, হাইতির বিশ্বকাপ দলে ২৫ জন খেলোয়াড়ই বাইরে খেলেন। হাইতির ক্লাবে খেলা ফুটবলার মাত্র একজন। হাইতির বিশ্বকাপ স্কোয়াডে দেশের বাইরের ১৬ ফুটবলারের মধ্যে ১২ জনের জন্ম ফ্রান্সে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে দুজন এবং কানাডা ও সুইজারল্যান্ডে জন্ম নেওয়া একজন করে ফুটবলার আছেন।

হাইতির বিশ্বকাপ দলে সবচেয়ে বড় নাম প্রিমিয়ার লিগের দল সান্ডারল্যান্ডের স্ট্রাইকার উইলসন ইসিদোর ও উলভসের মিডফিল্ডার জ্যঁ-রিকনার বেলেগার্ড। আক্রমণভাগে রয়েছেন হাইতির ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা ডাকেন্স নাজোন। ৭৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৪৪ গোল করা এই স্ট্রাইকার খেলেন ইরানের ক্লাব ইস্তেগলাল এফসিতে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইসরায়েল যখন ইরানের ওপর আক্রমণ শুরু করে, তখন তিনি তেহরান বিমানবন্দরে ছিলেন। তিনি বিমানেও চড়ে বসেছিলেন, কিন্তু যুদ্ধের কারণে আকাশপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিমান আর ওড়েনি। পরে সড়কপথে আজারবাইজান হয়ে বাড়ি ফেরেন। সেই বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতা বিশ্বকাপে তাঁকে ভালো খেলতে অনুপ্রেরণা জোগাবে বলেও বিশ্বাস নাজোনের। তাঁর সঙ্গে আক্রমণভাগে থাকছেন চলতি মরসুমে হাঙ্গেরিয়ান ক্লাব ফেরেন্সভারোসের হয়ে ১৬ গোল ও ১০ অ্যাসিস্ট করা লেনি জোসেফ।

গৃহযুদ্ধে জর্জরিত হাইতি বিশ্বকাপ বাছাইয়ের একটি ম্যাচও নিজের দেশে খেলতে পারেনি। বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করতে গিয়ে নিজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা শুনিয়েছেন কোচ সেবাস্তিয়ান মিগনে, ‘এটি আমার দ্বাদশ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট। যুদ্ধের কারণে ঠিক মতন খেলোয়াড়রা অনুশীলন করতে পারেনি। এই অবস্থায় আমরা বিশ্বকাপে যাচ্ছি। এই ধরনের প্রতিযোগিতায় সেরা একাদশ বেছে নেওয়া আমার পক্ষে খুবই কঠিন।আপাতত ২৬ জনের দল ঘোষণা করেছি। তার মধ্যে থেকেই সেরা একাদশ বাছতে হবে। ৫২ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আমাদের সমর্থক, খেলোয়াড় ও স্টাফদের জন্য এই বিশ্বকাপ যে একটা ঐতিহাসিক মুহূর্ত।’

আগামী বিশ্বকাপে হাইতির লক্ষ্য নিয়ে কোচ বলেন, ‘আমাদের প্রথম লক্ষ্য অবশ্যই বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম পয়েন্ট অর্জন করা। তবে আমাদের খেলোয়াড়দের মানসিকতার বিবেচনায় এটি খুবই ছোট টার্গেট। আমরা নকআউটে খেলার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামব। আমি চাই ছেলেরা মাঠে তাদের সেরাটা দিয়ে বিশ্বমঞ্চে হাইতির একটি চমৎকার ভাবমূর্তি তুলে ধরুক।’ গ্রুপ ‘সি’তে হাইতির সঙ্গে আছে পাঁচবারের বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিল, ২০২২ সালের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো ও স্কটল্যান্ড। ১৩ জুন স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করবে হাইতি।

বিশ্ব কাপে হাইতির পরিসংখ্যান:

বিশ্বকাপে হাইতি কেবল দুইবার খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে—১৯৭৪ এবং ২০২৬ সাল।

হাইতির রেকর্ড বিশ্বকাপে: সর্বমোট ম্যাচ: ৩টি। জয় ০, ড্র ০, হার ৩,গোল করেছে ২, গোল হজম করেছে ১৪টি।

বিশ্বকাপের ইতিহাস ও তথ্য:

**প্রথম অংশগ্রহণ (১৯৭৪): ১৯৭৪ সালে জার্মানির মাটিতে হাইতি প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলে। তারা গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচেই (ইতালি, পোল্যান্ড এবং আর্জেন্টিনার বিপক্ষে) পরাজিত হয়েছিল।**প্রত্যাবর্তন (২০২৬):

৫২ বছরের দীর্ঘ বিরতির পর হাইতি ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। বাছাইপর্বে কনকাকাফ গ্রুপ 'সি'-তে দুর্দান্ত পারফর্ম করে তারা এই গৌরব অর্জন করে।

**সবচেয়ে সফল খেলোয়াড়:

বিশ্বকাপে হাইতির হয়ে সর্বমোট করা ২টি গোলই ইমানুয়েল স্যানন করেছিলেন। ১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপে তিনি শক্তিশালী ইতালির গোলরক্ষক ডিনো জফের বিপক্ষে গোল করে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিলেন।

You might also like!