
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: কলকাতা পুরসভার মাসিক অধিবেশন বাতিল হওয়াকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের তরফে বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে অধিবেশন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত জানানো হয়, যা নিয়ে শহরের রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। Kolkata Municipal Corporation-এর এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছে, অন্যদিকে শাসক শিবির প্রশাসনিক কারণই উল্লেখ করেছে।ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, শুক্রবারের পুর অধিবেশন স্থগিত করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বৈঠক স্থগিতের কোনও কারণ উল্লেখ করা হয়নি। কবে ফের বৈঠক হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এর আগে কলকাতা পুরসভার নির্ধারিত মেয়র পারিষদ বৈঠক বাতিল হয়ে যায়। গত ১৮ মে, সোমবার এই বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে তা বাতিল হয়ে যায়। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডের বৈঠকের জন্য সময় দিতে পারবেন না। সে কারণেই বৈঠক বাতিল করে দেওয়া হয়। এরপর মেয়র ফিরহাদ হাকিমের তরফ থেকেও বৈঠক বাতিলের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীকালে নতুন দিনক্ষণ স্থির করা হবে। সেই সময় আবারও জানিয়েও দেওয়া হবে।
সূত্রের খবর, নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই নাকি মেয়র ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। সে কারণে সম্ভবত প্রশাসনিক অচলাবস্থা তৈরির পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। আর অনেকেই মনে করছেন, এভাবে প্রশাসনিক টানাপোড়েন চলতে থাকলে বিরোধী পরিচালিত পুরবোর্ড কতদিন স্বাভাবিকভাবে কাজ চালাতে পারবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে নাগরিক পরিষেবা এবং উন্নয়নমূলক কাজের ক্ষেত্রে প্রভাব পড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতে জোর জল্পনা মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিতে পারেন ফিরহাদ হাকিম।
সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে তরী ডুবেছে তৃণমূল কংগ্রেসের। যে কলকাতা তাদের খাস গড় ছিল, সেখানেও ১১টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ৬টিই গিয়েছে বিজেপির দখলে। এর প্রভাব পড়ছে কলকাতা পুরসভাতেও। ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১০২টিতেই এগিয়ে বিজেপি প্রার্থীরা। কলকাতা পুরসভা এখনও খাতায়-কলমে তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে থাকলেও এরপর একের পর এক ঘটনায় কার্যত খুঁটি নড়ে গিয়েছে, তা স্পষ্ট। মেয়র ফিরহাদ হাকিমের অজ্ঞাতসারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে বিল্ডিং বিভাগের তরফে ভাঙার নোটিস, সপুত্র মালা রায়ের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলার মতো ঘটনা ঘটেছে। রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা, ফিরহাদ হাকিম মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিতে পারেন। তা নাকি তিনি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানিওয়েছেন। এতে ‘অশনি সংকেত’ টের পেয়েই দলকে আগলাতে দলীয় কাউন্সিলরদের তড়িঘড়ি বৈঠকে ডাকলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। জানা যাচ্ছে, শুক্রবার বিকেল ৪টেয় কালীঘাটের বাড়িতে বৈঠক করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
