
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: বলিউড অভিনেত্রী অনুষ্কা শর্মা এবং ক্রিকেট তারকা বিরাট কোহলি এখন অনেকটাই লাইমলাইটের বাইরে। মুম্বইয়ের ব্যস্ত জীবন ছেড়ে তাঁরা বর্তমানে লন্ডনেই বেশি সময় কাটাচ্ছেন। অভিনয় জগৎ থেকেও দূরত্ব তৈরি করেছেন অনুষ্কা। বরং এখন আধ্যাত্মিক জীবনধারার প্রতিই বেশি ঝোঁক অভিনেত্রীর। গলায় তুলসীর মালা, সম্পূর্ণ নিরামিষ খাবার এবং সরল জীবনযাপন— গত কয়েক বছরে অনুষ্কার জীবনযাত্রায় এসেছে বড় পরিবর্তন। শুধু মাছ-মাংস নয়, দুগ্ধজাত খাবারও ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। জানা গিয়েছে, ২০১৫ সাল থেকেই নিরামিষাশী জীবনধারা অনুসরণ করছেন অভিনেত্রী।

স্ত্রীর এই জীবনদর্শনের প্রভাব পড়েছে বিরাট কোহলির জীবনেও। ভারতীয় ক্রিকেটের প্রাক্তন অধিনায়ক নিজেই জানিয়েছেন, প্রথমদিকে আমিষ খাবার ছাড়া তাঁর কাছে মোটেও সহজ ছিল না। তবে ধীরে ধীরে সেই সিদ্ধান্তই তাঁর জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। বিরাটের কথায়, অনুষ্কার কাছ থেকেই তিনি জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পেয়েছেন। বিশেষ করে পশুপাখির প্রতি সহানুভূতি ও ভালোবাসা তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। সেই ভাবনা থেকেই নিরামিষাশী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে অনুপ্রাণিত হন তিনি। ক্রিকেট তারকার দাবি, এই পরিবর্তনের ফলে তিনি এখন শারীরিক ও মানসিকভাবে আগের তুলনায় অনেক বেশি স্বস্তিতে রয়েছেন। পাশাপাশি অনুষ্কার উপস্থিতি তাঁকে একজন ভালো মানুষ হিসেবেও গড়ে তুলেছে বলে মনে করেন বিরাট।

ব্যস্ত পেশাগত জীবন থেকে খানিক দূরে সরে গিয়ে এখন পরিবার, সন্তান এবং আধ্যাত্মিক জীবনকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন এই তারকা দম্পতি। তাই অনুরাগীদের চোখে তাঁরা এখন শুধুই গ্ল্যামার জগতের তারকা নন, বরং বদলে যাওয়া জীবনদর্শনেরও এক অনন্য উদাহরণ। অন্যদিকে, সন্তানদেরও সাধারণ জীবনযাপনের মধ্যেই বড় করে তুলতে চান এই তারকা দম্পতি। খ্যাতির ঝলকানি থেকে দূরে রেখে পরিবারকে সময় দেওয়াকেই এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তাঁরা। জীবনের এই বদলে যাওয়া অধ্যায়ে অনুষ্কা ও বিরাট যেন খুঁজে পেয়েছেন মানসিক শান্তি এবং নতুন এক পরিপূর্ণতা।
