
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পরেও মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-র ইস্তফা না দেওয়া নিয়ে ফের সরব হলেন কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী। পরপর দু’দিন তৃণমূল সুপ্রিমোকে নিশানা করে তীব্র আক্রমণ শানালেন তিনি। বুধবার বহরমপুরে জেলা কংগ্রেস কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অধীরের কটাক্ষ, “ইস্তফা না দিয়ে রাজনৈতিক নাটক করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।”
এর আগেও তিনি মন্তব্য করেছিলেন, “ঘাড় ধাক্কা দিয়ে যতক্ষণ না তাড়ানো যাবে, ততক্ষণ এই মুখ্যমন্ত্রী যাবেন না।” সেই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছিল। এবার আরও একধাপ এগিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনে হারার পর একদিকে ভোটে কারচুপির অভিযোগ তোলা হচ্ছে, অন্যদিকে বিরোধী দলনেতা খোঁজার কাজও চলছে। তাঁর মতে, এই অবস্থান পরস্পরবিরোধী এবং সম্পূর্ণ রাজনৈতিক নাটক।
বুধবার দুপুরে বহরমপুরে মুর্শিদাবাদ জেলা কংগ্রেস কার্যালয় থেকে সাংবাদিক বৈঠকে অধীর চৌধুরী বলেন, “একদিকে বলা হচ্ছে অন্যায় করে হারিয়েছে, ইস্তফা দেবেন না। অন্যদিকে বিরোধী দলনেতা খুঁজছেন। এটা হচ্ছে রাজনৈতিক নাটক। তৃণমূলের যাঁরা জিতেছেন বা যাঁরা হেরেছেন, তাঁরা সবাই বলুন আমরা সবাই মানছি না। তৃণমূল যদি মনে করে এই নির্বাচন অনৈতিক হয়েছে, চুরি হয়েছে প্রয়োজনে বয়কট করে দিন।” অধীর বলেন, “কংগ্রেস আগেই ভোট চুরি নিয়ে সরব হয়েছিল। ভোট চোর গোদি ছোড় রাহুল গান্ধী প্রথম কথা বলেছিলেন। তখন কেউ সমর্থন করেনি। এখন হেরে যাওয়ার পর মনে হচ্ছে ভোট চুরি হয়েছে। আপনি একা মেনে কী করবেন, এটা নাটক ছাড়া কিছু নয়। আপনি তা হলে আদালতে যান, আপনি তো আইনজীবী, আপনার পক্ষে সওয়াল করুন। নাটক করার কোনও মানে হয় না। পশ্চিমবঙ্গের একটি ঐতিহ্য রয়েছে। আমি হেরেছি কিন্তু আমি ছাড়ব না, এটা প্রলাপ ছাড়া আর কিছু নয়।”
উল্লেখ্য, তৃণমূলের পরাজয়ের পর রাহুল গান্ধী প্রকাশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছেন। কংগ্রেসের অন্দরে কেউ যাতে তৃণমূলের হার নিয়ে উচ্ছ্বাস না দেখান, সেই বার্তাও দিয়েছেন তিনি। কিন্তু সেই অবস্থানের বিপরীতে গিয়ে অধীর চৌধুরীর এই ধারাবাহিক আক্রমণ রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে।
