
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: জয়ের পর নন্দীগ্রামে যেন উৎসবের আবহ! সেই আবহের মধ্যেই বুধবার সকালে বিজেপির কার্যালয়ে পৌঁছলেন শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রাম জুড়ে উচ্ছ্বসিত কর্মী-সমর্থকদের ভিড়। আর সেই জনজোয়ারের মাঝেই শান্তির বার্তা দিলেন শুভেন্দু। এদিন তাঁর মুখে শোনা গেল তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য— ‘আমি এগারোর (২০১১) পরিবর্তনে ছিলাম, এ বার আসল পরিবর্তনে থাকলাম।’বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পালাবদলকে আরও বড় ও তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছেন।
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে দু’টি কেন্দ্র থেকে লড়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। দু’টি আসনেই ভালো ব্যবধানে জয় হয়েছে তাঁর। সেক্ষেত্রে একটি কেন্দ্র থেকেই বিধায়ক থাকতে পারবেন তিনি। এ বিষয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘আমার পার্টির কেন্দ্রীয় নেতারা যেটা ঠিক করবেন, সেটাই হবে। আমার মতামত দেওয়ার থাকলে তাঁদের কাছেই দেব। ১০ দিনের মধ্যে যে কোনও একটা সিট ছাড়তে হবে। তবে দু’টি কেন্দ্রেই আমি আমার কর্তব্য থেকে সরে যাব না। আমার কেন্দ্রীয় নেতারা যে সিদ্ধান্ত নেবেন, সেই সিদ্ধান্ত মেনে নেব।’ ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের নিরিখে পূর্ব মেদিনীপুরের ১৬টি বিধানসভা আসনেই এগিয়ে ছিলেন বিজেপি প্রার্থীরা। এ বার ১৬-০ হয়েছে এই জেলায়। গতবারের থেকে এই নির্বাচনে ভোট শতাংশ অনেকটা বাড়িয়ে নিতে পেরেছে বিজেপি বলে জানান শুভেন্দু। তাঁর কথায়, ‘আমরা ৩৯ শতাংশ ভোট লোকসভায় পেয়েছিলাম। এ বার গোটা রাজ্যে প্রায় ৪৬ শতাংশ পেয়েছি। আগামী এক বছরের মধ্যে সরকার এবং দল এত ভালো কাজ করবে, যাতে আগামী দিনে আমরা ৬০ শতাংশ বেশি মানুষের ভোট পেতে পারি। এ বার পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ১৬-০ হয়েছে। ৫৬ শতাংশ মানুষ বিজেপিকে ভোট দিয়েছে।’
সরকার গঠনের পরেই নন্দীগ্রাম এলাকার বেশ কিছু উন্নয়নমূলক কাজ শুরু হবে আশ্বাস নন্দীগ্রামের বিধায়কের। শুভেন্দু জানান, হলদিয়া নন্দীগ্রাম জুড়ে দেবো ব্রিজ করে। মহিষাদলে রেসিডেন্সিয়াল আধুনিক স্কুল বানাব। সোনাচূড়াতে আইটিআই করা হবে। নন্দীগ্রাম ১ যাতে দু’বার ধান চাষ হতে পারে, সেই ব্যবস্থা করা হবে। কর্মীদের এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বিরোধীদের পার্টি অফিসে হাত না দেওয়ার বার্তা দেন শুভেন্দু। কর্মীদের বার্তা, আগামী ৯ তারিখের পরে পুলিশের অনুমতি নিয়ে এলাকায় বিজয় মিছিল করবেন। এখন এই দু-তিন দিন বিজয় মিছিল করবেন না।
