
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর এখন বিরোধী আসনে তৃণমূল কংগ্রেস। ভবানীপুর কেন্দ্র থেকেও পরাজিত হয়েছেন দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে রাজনৈতিক ধাক্কার মাঝেও নিজের সৃজনশীল জগৎ থেকে সরে আসেননি তিনি। বরং নতুন পরিস্থিতির মধ্যেই দলের কর্মী-সমর্থকদের সাহস জোগাতে ফের কলম ধরলেন তৃণমূল নেত্রী। এবার তিনি লিখলেন একটি ইংরেজি কবিতা, যার নাম ‘ব্রেভ’। প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকাকালীনও অবসর পেলেই নিজের পছন্দের নানা কাজে সময় কাটাতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কখনও ছবি আঁকা, কখনও গান লেখা বা সুর করা, আবার কখনও সাহিত্যচর্চা— সবই তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রাজনৈতিক ব্যস্ততার মাঝেও এই সৃজনশীলতা বরাবরই তাঁকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। এবার সরকার বদলের পরও সেই ধারা অব্যাহত রাখলেন তিনি।
ফলপ্রকাশের পরদিন সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, এখন তিনি ‘মুক্ত বিহঙ্গ’ হয়ে মানুষের জন্য কাজ করতে চান। আর সেই বার্তারই যেন প্রতিফলন দেখা গেল তাঁর নতুন কবিতায়। ১৯ লাইনের কবিতা ‘ব্রেভ’-এ সাহস, আত্মবিশ্বাস এবং নিজের কাজের উপর আস্থা রাখার বার্তা দিয়েছেন তিনি। কবিতার ছত্রে ছত্রে উঠে এসেছে জীবনের কঠিন সময়কে হাসিমুখে মোকাবিলা করার কথা। পাশাপাশি তিনি লিখেছেন, ভীতুরা সবসময় ভীতুই থেকে যায় এবং শয়তানের শক্তি চিরস্থায়ী নয়। কবিতায় জন্ম ও মৃত্যুর চিরন্তন সত্যও তুলে ধরেছেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর বক্তব্য, মানুষ জন্মের সময় যেমন একা আসে, তেমনই মৃত্যুর সময়ও একাই চলে যায়। তাই নিজের আত্মার উপর ভরসা রাখা এবং নিজেকে ভালোবাসার কথাও লিখেছেন তিনি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহিত্যচর্চা বরাবরই আলোচনা ও সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেছে। তাঁর লেখা দেড়শোরও বেশি বই প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে বহু বই ‘বেস্ট সেলার’ তকমাও পেয়েছে। কিছু বই পুরস্কৃতও হয়েছে। যদিও সাহিত্য মহলের একাংশ তাঁর লেখার গুণমান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিভিন্ন সময়ে। কিন্তু সমালোচনাকে কখনও গুরুত্ব দেননি তৃণমূল নেত্রী। রাজনৈতিক জীবনের উত্থান-পতনের মধ্যেও নিজের সৃষ্টিশীলতাকে ধরে রেখেছেন তিনি। নতুন কবিতা ‘ব্রেভ’ যেন সেই লড়াকু মানসিকতারই আরেক প্রতিচ্ছবি।
