
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: সময় বদলেছে, বদলেছে সমাজের অনেক চিন্তাভাবনাও। আজকের নারীরা ঘর ও কর্মক্ষেত্র— দুই দিকই দক্ষতার সঙ্গে সামলাচ্ছেন। শহুরে সমাজে ঋতুস্রাব নিয়ে সচেতনতা আগের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে। তবু দেশের বহু ছোট শহর ও গ্রামীণ এলাকায় এখনও পিরিয়ডস নিয়ে রয়েছে একাধিক কুসংস্কার ও অস্বস্তি। সেই সামাজিক বাস্তবতাকেই এবার সামনে আনলেন অভিনেত্রী ও সঙ্গীতশিল্পী সাবা আজাদ। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ঋতুস্রাব নিয়ে সমাজের প্রচলিত রক্ষণশীল মানসিকতার তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি। প্রসঙ্গত, খুব শীঘ্রই ‘হু ইজ ইয়োর গাইনোকোলজিস্ট’-এর দ্বিতীয় সিজনে অভিনেতা কুণাল ঠাকুরের সঙ্গে দেখা যাবে সাবাকে। সেই সিরিজের প্রচারের মাঝেই নারীদের প্রতি বৈষম্য, পিরিয়ডস নিয়ে লজ্জাবোধ এবং ভুল ধারণা নিয়ে সরব হন অভিনেত্রী।
সাবার মতে, ঋতুস্রাব কোনও লজ্জার বিষয় নয়, বরং এটি নারীজীবনের এক স্বাভাবিক এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। তাঁর কথায়, “ছোট শহরগুলিতে এখনও পিরিয়ডস নিয়ে অস্বস্তি রয়েছে। কোনও মেয়ের ঋতুস্রাব দেরিতে হলে বা শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে তাকে নিয়ে নানা সমালোচনা শুরু হয়ে যায়। অনেকসময় মেয়েদের অসুস্থ বা ‘সমস্যাগ্রস্ত’ বলেও দাগিয়ে দেওয়া হয়। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।” তিনি আরও বলেন, “ছোট শহরগুলিতে মেয়েদের পিরিয়ডস সংক্রান্ত কোনও সমস্যা দেখা দিলে তাঁকে অসুস্থ বলে মনে করা হয়। মানুষ এটা একবারও ভাবে না যদি ঋতুস্রাব না হয় তাহলে সন্তানধারনও সম্ভব নয়। আর সন্তান না হলে একটা সময় এই পৃথিবী থেকে মানুষ বিলুপ্ত হয়ে যাবে। তাই নারীর শরীরের প্রতি সম্মান জানিয়ে এটাকে উদযাপন করা উচিত। কারণ একজন নারীই পারে নতুন জীবনের জন্ম দিতে। ঋতুস্রাব হল জীবনের এক চক্র যা নতুন প্রাণকে এই পৃথিবীর আলো দেখায়।”

সমাজে এখনও প্রচলিত নানা বিধিনিষেধ নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন সাবা আজাদ। তাঁর বক্তব্য, “এখনও এমন অনেক কুসংস্কার রয়েছে। যেমন পিরিয়ডসের সময় রান্নাঘরে যাওয়া যাবে না, অনেক কাজে বিধিনিষেধ থাকে। এমনকী এটা নোংরা অস্বাস্থ্যকর বলেও মনে করা হয়। এগুলো ভীষণ রক্ষণশীল মানসিকতার পরিচয়। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়েও আমাদের এইরকম পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। বিজ্ঞান অনেক এগিয়েছে, তাই আমাদেরও একটু শেখা উচিত।” শিশুদের শিক্ষার প্রসঙ্গ টেনেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন অভিনেত্রী। তাঁর মতে, “শিশুদের শেখার ক্ষমতা অনেক বেশি। ওরা স্পঞ্জের মতো সবকিছু শুষে নেয়। কিন্তু বড়রা জানিই না কীভাবে তাদের শেখাতে হয়। শিশুরা সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছে না। প্রকৃত শিক্ষা প্রদানের বদলে কুসংস্কার, লজ্জা এসব নিয়ে মগজধোলাই করা হয়।” ঋতুস্রাবকে ঘিরে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো এখন সময়ের দাবি বলেই মনে করছেন সাবা। তাঁর মতে, সচেতনতা এবং শিক্ষাই পারে এই দীর্ঘদিনের সামাজিক ট্যাবু ভাঙতে।
