Breaking News
 
Abhishek Banerjee : এবার অভিষেকের বাড়িতেও বুলডোজার? শান্তিনিকেতন সংক্রান্ত নোটিসে রাজনৈতিক তোলপাড় Sujan Chakraborty on Abhishek Banerjee :‘পিসির বাড়িতে আশ্রয়’ মন্তব্যে তীব্র বিতর্ক, ফলতা নির্বাচন নিয়ে অভিষেককে তোপ সুজনের Manirul Islam : ‘এমন মুখ্যমন্ত্রী আগে থাকলে…’ শুভেন্দুকে ধন্যবাদ জানিয়ে তৃণমূল ছাড়ার ব্যাখ্যা প্রাক্তন বিধায়কের Jahangir Khan :ফলতায় বড় রাজনৈতিক মোড়! ভোটের লড়াই ছাড়লেন জাহাঙ্গির, তোপ বিরোধীদের Chicken neck : জাতীয় নিরাপত্তায় বড় পদক্ষেপ, চিকেনস নেকের গুরুত্বপূর্ণ জমি কেন্দ্রকে দিল রাজ্য সরকার Amit Shah : ‘মাওবাদীদের অস্তিত্ব শেষের পথে’, বস্তারে দাঁড়িয়ে বড় দাবি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহের

 

Entertainment

2 hours ago

Taslima On Secular State: “রাষ্ট্রের কাজ ধর্ম পোষণ নয়”,বঙ্গে ধর্মের ভিত্তিতে সমস্ত প্রকল্প বন্ধের সিদ্ধান্তকে সমর্থন তসলিমার

Taslima Nasrin
Taslima Nasrin

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:  ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে দেওয়া সমস্ত সরকারি ভাতা আগামী মাস থেকে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ইমাম, মোয়াজ্জেম ও পুরোহিতদের জন্য চালু বিভিন্ন সহায়তামূলক প্রকল্প বাতিলের ঘোষণার পরেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক। আর এই সিদ্ধান্তকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানালেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন। বলেন, “ধর্মীয় ভাতা কেবল অর্থ সাহায্য নয়; এটি এক ধরনের রাজনৈতিক বার্তা।”

সোমবার সমাজমাধ্যমে দীর্ঘ পোস্ট করে তসলিমা লেখেন, ‘আগামী জুন মাস থেকে ইমাম-মোয়াজ্জেম-পুরোহিতদের ভাতা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য মন্ত্রিসভা। এটা খুব জরুরি সিদ্ধান্ত। রাষ্ট্র যখন ইমাম-মোয়াজ্জেম-পুরোহিত বা অন্য ধর্মীয় কর্মীদের ভাতা দিতে শুরু করে, তখন প্রশ্ন ওঠে – একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের কাজ কি ধর্মীয় পদাধিকারীদের অর্থনৈতিকভাবে পোষণ করা? রাষ্ট্র কি নাগরিকের কল্যাণে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেরও পৃষ্ঠপোষক হয়ে উঠবে?’ তিনি আরও বলেন, ‘ধর্মীয় পদাধিকারীদের জন্য সমস্ত রাষ্ট্রীয় ভাতাই বন্ধ হওয়া উচিত। কারণ, ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের কাজ ধর্ম পোষা নয়। রাষ্ট্র যদি করদাতার অর্থ দিয়ে মসজিদ-মন্দিরের কর্মচারীদের ভরণপোষণের দায়িত্ব নেয়, তাহলে রাষ্ট্র আর নাগরিকদের নিরপেক্ষ অভিভাবক থাকে না; ধীরে ধীরে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষক হয়ে ওঠে। অনেকে বলেন, দরিদ্র ইমাম-মোয়াজ্জেম-পুরোহিতদের সাহায্য করা মানবিক কাজ। অবশ্যই দরিদ্র মানুষকে সাহায্য করা উচিত। কিন্তু প্রশ্ন হল, সাহায্যের ভিত্তি কী হবে? মানুষের দারিদ্র্য, নাকি ধর্মীয় পরিচয়? একজন দরিদ্র কৃষক, দরিদ্র শ্রমিক, পঙ্গু নারী, বেকার যুবক – তারা কি কম অসহায়? রাষ্ট্র যদি কাউকে সামাজিক নিরাপত্তা দিতে চায়, তাহলে নাগরিক হিসাবে দিক, ধর্মীয় কর্মচারী হিসাবে নয়।’

তসলিমার মতে, “ধর্ম কেবল বিশ্বাসের বিষয় নয়, রাজনৈতিক অস্ত্রও। ধর্মীয় ভাতা মানে কেবল অর্থ সাহায্য নয়; এটি এক ধরনের রাজনৈতিক বার্তা। আজ ইমাম, কাল পুরোহিত, পরশু অন্য ধর্মের নেতা – এভাবে রাষ্ট্র সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অর্থদাতা হয়ে ওঠে। তখন রাজনীতি আর ধর্মের দূরত্ব কমতে থাকে। ভোটব্যাঙ্কের হিসেব ঢুকে পড়ে রাষ্ট্রনীতিতে।  ধর্মনিরপেক্ষতা মানে সব ধর্মকে সমানভাবে খুশি রাখা নয়। ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্ম থেকে রাষ্ট্র পৃথক থাকবে। রাষ্ট্র নাগরিকদের দেখবে, তাদের ধর্মকে নয়। ধর্ম ব্যক্তিগত বিশ্বাসের বিষয়। কেউ নমাজ পড়বেন, কেউ পুজো করবেন, কেউ কিছুই মানবেন না – এটি ব্যক্তি স্বাধীনতা। কিন্তু সেই বিশ্বাসের অর্থনৈতিক দায় রাষ্ট্র কেন নেবে? রাষ্ট্রের টাকায় ধর্মীয় কাঠামো টিকিয়ে রাখা আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের কাজ হতে পারে না।”

নিজের পোস্টে সাহিত্যিক আরও উল্লেখ করেন, “যে দেশে স্কুলে শিক্ষকের অভাব, হাসপাতালে বেডের অভাব, বিজ্ঞানচর্চা অবহেলিত, বেকারত্ব বাড়ছে – সেদেশে ধর্মীয় পদাধিকারীদের ভাতা দেওয়াকে উন্নত রাষ্ট্রচিন্তা বলা যায় না। রাষ্ট্রের প্রতিটি টাকা ব্যয় হওয়া উচিত মানুষের অধিকার ও উন্নয়নের জন্য, ধর্মীয় পরিচয়ের জন্য নয়। ধর্মকে যত বেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে মেশানো হবে, সমাজ তত বেশি ধর্মান্ধতার দিকে যাবে, সাম্প্রদায়িকতার দিকে যাবে। আর রাষ্ট্র যত বেশি ধর্মনিরপেক্ষ হবে, ধর্ম থেকে পৃথক হবে, মানুষ তত বেশি বিজ্ঞানমনস্ক হবে, এবং নাগরিক হিসাবে মর্যাদা পাবে।”

উল্লেখ্য, সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, চলতি মাস পর্যন্ত এই প্রকল্প চালু থাকলেও আগামী জুন মাস থেকে ধর্মীয় শ্রেণিভিত্তিক সমস্ত সহায়তামূলক প্রকল্প বন্ধ করে দেওয়া হবে। তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর এবং সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরের আওতায় থাকা এই প্রকল্পগুলির বিষয়ে শীঘ্রই বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। 


You might also like!