
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি ও সম্পত্তির বেআইনি অংশ ভাঙা সংক্রান্ত নোটিসের সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা ছিল সোমবার। তবে এর আগেই তিনি সময় বাড়ানোর আবেদন করেন কলকাতা পুরসভার কাছে।সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে পুরসভা আরও ১০ দিনের সময়সীমা বৃদ্ধি করেছে বলে জানা গেছে।এরই মধ্যে সোমবার বিকেলে কলকাতা পুলিশের একটি দল হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে অভিষেকের ঠিকানায় পৌঁছায়, যা ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
সূত্রের খবর, লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস কোম্পানিরই সম্পত্তি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হরিশ চ্যাটার্জি রোডের শান্তিনিকেতন। তৃণমূল শাসনকালে থাকাকালীনই এই কোম্পানি ঘিরে ছিল একাধিক বিতর্ক। সোমবার কলকাতা পুরসভার ‘ডেডলাইন’ নোটিস দিতেই আচমকা অভিষেকের বাড়িতে পৌঁছে যায় কলকাতা পুলিশের একটি টিম। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের সঙ্গে জড়িত বিষয়েই নতুন করে কলকাতা পুলিশের নজরে শান্তিনিকেতন? নাকি এই পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার কারণে কলকাতা পুলিশের সারপ্রাইজ ভিজিট? যদিও অভিষেকের বাড়ি থেকে বেরোনোর পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের কোনও উত্তর দিতে চাননি আধিকারিকরা। এই আবহে শান্তিনিকেতনের নজরদারিতে কলকাতা পুলিশের গতিবিধি নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।
গত সোমবারই অভিষেকের দুটি ঠিকানা কালীঘাট রোড, হরিশ মুখার্জি রোডের বাড়িতে নোটিস যায় কলকাতা পুরসভার। বাড়তি কোনও নির্মাণ হলে কি পুরসভার অনুমতি নেওয়া হয়েছিল? সেই বিষয় জানতে চেয়েই নোটিস গিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের কাছে।শান্তিনিকেতনের বেআইনি অংশ ভাঙারও নির্দেশ দেয় কলকাতা পুরসভা। নজরে অভিষেকের ১৭ সম্পত্তিও।দিন কয়েক আগে কালীঘাটে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে বৈঠক সেরে বেরিয়েছিলেন অভিষেক। গাড়িতে ওঠার সময় তাঁকে ছেঁকে ধরেছিলেন সাংবাদিকরা। কলকাতা পুরসভার তরফে নোটিস দেওয়ার বিষয়ে একের পর এক প্রশ্ন ধেয়ে আসতে থাকে। প্রথমে অভিষেক কোনও উত্তর দেননি। একসময় গাড়ির কাঁচ নামিয়ে ভিতর থেকে সুর চড়িয়ে জবাব দিয়েছিলেন তিনি! রীতিমতো আঙুল তুলে ধমকের সুর শোনা যায় তাঁর গলায়। বলেন, “নির্দিষ্ট করে জেনে আসুন বাড়ির কোন অংশটা অবৈধ। তারপর আমাকে প্রশ্ন করুন, উত্তর দেব।” অভিষেকের এই মেজাজ হারানো নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছিল চর্চা। শেষপর্যন্ত সুর নরম করতে দেখা গেল তৃণমূলের ডায়মন্ড হারবারের সাংসদকে।
