
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: দক্ষিণ দিল্লির মালব্যনগরের ‘ফ্লারিশ হোটেল’-এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২১ জনের মৃত্যু ও ৩৭ জন আহত হওয়ার ঘটনায় সামনে এসেছে চাঞ্চল্যকর অনিয়মের অভিযোগ। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, হোটেলটির জন্য মাত্র ৬টি ঘরের অনুমোদন থাকলেও সেখানে ২৫টি ঘর চালানো হচ্ছিল। অভিযোগ, সরকারি নিয়মকে উপেক্ষা করেই রাজধানীতে দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবসা চলছিল।
দিল্লি সরকারের ‘বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট’ স্কিমে হোটেলে ঘর নির্মাণের নির্দিষ্ট অনুমোদন দেওয়া হয়। নিবন্ধিত হোটেলগুলির ক্ষেত্রে আট থেকে সর্বোচ্চ ১৬টি ঘরের অনুমোদন দেওয়া হয়ে থাকে। সেখানে মালব্য নগরের হউজ রানি এলাকার হোটেলটি কীভাবে ২৮টি ঘর বানিয়ে দিনের পর দিন ব্যবসা চালাল? কাদের মদতে এমনটা ঘটল? প্রশাসনের একংশই কি দুর্নীতির কারিগর? এইসব প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয় বিধায়ক সতীশ উপধ্যায়কে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেননি। যদিও তদন্ত চলছে ফলে সাফাই দেন।
বুধবার সকাল ৯টা ৪৫ মিনিট নাগাদ পাঁচতলা ফ্লারিশ হোটেলের বেসমেন্টের ‘লেমন গ্রিন’ নামের রেস্তরাঁ থেকে ধোঁয়া বেরতে দেখেন স্থানীয়রা। দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে হোটেলের বিভিন্ন তলায় থাকা ঘরগুলিতে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের অন্তত ১০টি ইঞ্জিন। যদিও দুর্ঘটনায় অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। অধিকাংশ বিদেশি পর্যটক বলে জানা গিয়েছে। হোটেলের বেসমেন্ট থেকে এগারো জনকে উদ্ধার করেছেন দমকল কর্মীরা। তাঁদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে ওই ব্যক্তিরা কেমন আছেন, তা জানা যায়নি এখনও পর্যন্ত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিহতদের পরিবারকে সহমর্মিতা জানিয়েছেন। সেই সঙ্গেই ঘোষণা করেছেন মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা ও আহতদের চিকিৎসার জন্য ৫০ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে।
আম আদমি পার্টির নেতা সোমনাথ ভারতী জানিয়েছেন, “সব মিলিয়ে পরিস্থিতি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও ভয়াবহ। ভবনের ওপরের দিকের কক্ষগুলোতে এখনও বেশ কয়েকজন মানুষ আটকা পড়ে আছেন। এই ভবনটি একটি হোটেল হিসেবে পরিচালিত হচ্ছিল। এর আগে এটি খাদি গ্রাম ভবন হিসেবে ব্যবহৃত হত।” সেই সঙ্গেই তাঁর অভিযোগ, খবর পাওয়ার অন্তত ৫০ মিনিট পর দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এদিকে এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্টে অগ্নিকাণ্ডদের নিহতদের ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা।
