West Bengal

3 hours ago

Ritabrata Banerjee :স্পিকারের দ্বারস্থ ৫৮ তৃণমূল বিধায়ক, ‘সভানেত্রী মমতা, দলনেতা ঋতব্রত’—চিঠিতে স্পষ্ট বার্তা

Ritabrata Banerjee
Ritabrata Banerjee

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসাবে চেয়ে বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুকে চিঠি দিলেন তৃণমূলের বিদ্রোহীরা। ঋতব্রত ছাড়া ওই চিঠিতে ৫৮ জন বিধায়কের সই রয়েছে।সূত্রের খবর, সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই নেত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ‘আসল তৃণমূলে’র বিধায়করা দলনেতা হিসেবে চাইছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে। উপ দলনেতা সন্দীপন সাহা, জাভেদ খান ও শিউলি সাহা। মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামান। এবার তৃণমূলের ভাগ্য স্পিকারের হাতে। তাঁর সিদ্ধান্তেই ‘মালিকানা’ বদল হবে তৃণমূলের। 

তৃণমূলের ভবিষ্যৎ কী, পালাবদলের পর থেকে এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছিল সর্বত্র। তবে প্রথম থেকেই নেতা-কর্মীদের উপর ভরসা রেখেছিলেন সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছিলেন, ফের ঘুরে দাঁড়াবেন। কিন্তু দলের অন্দরে যে চোরাস্রোত বয়ে যাচ্ছে, তা সম্ভবত বুঝতে পারেননি দলনেত্রীও। কালীঘাটের বৈঠকে একের পর এক বিধায়কের অনুপস্থিতিও প্রাথমিকভাবে বুঝতে দেয়নি কী ঘটতে চলেছে। বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা চিঠির সই নিয়ে বিতর্কই মুহূর্তে বদলে দিয়েছে ‘খেলা’। সই কাণ্ডে মুখ খুলে বহিষ্কৃত হওয়ার পরই ‘পাওয়ার গেম’-এ শামিল হয়ে যান ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা। শক্তি প্রমাণে ‘আসল তৃণমূল’ স্বীকৃতি পেতে বিদ্রোহীদের এক ছাতার তলায় আনতে মরিয়া হয়ে যান ঋতব্রত। কারণ, বিধানসভায় ‘আসল তৃণমূলে’র মর্যাদা পেতে নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজন জেতা আসনের দুই তৃতীয়াংশের সম্মতি। অর্থাৎ ৫২ জন বিধায়ককে প্রয়োজন ছিল ঋতব্রতর। 

দফায় দফায় বৈঠকের পর অবশেষে লক্ষ্য পূরণে সক্ষম হন ঋতব্রত-সন্দীপন। কালীঘাটের বৈঠক হোক বা মমতার ধর্না, কোথায় দেখা যায়নি যে বিধায়কদের, তারা বারবার বৈঠক করেছেন ঋতব্রতদের সঙ্গে। বুধবার সকালে হাজির হয়েছেন বিধানসভাতেও। ফলে আজ যে চিঠি জমা পড়বে, তা মোটের উপর নিশ্চিত ছিলই। হলও ঠিক তাই। এদিন বেলা ১২ টা নাগাদ স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বোসের কাছে ৫৮ জন বিধায়কের সই করা চিঠি জমা দেওয়া হয়। জানা যায়, চিঠি জমা দেওয়ার আগের বৈঠকে পরিষদীয় দলের নেতা হিসেবে উঠে এসেছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। তাঁকে বিরোধী দলনেতা পদে চাইছেন সঙ্গীরা। উপ দলনেতা সন্দীপন সাহা, জাভেদ খান ও শিউলি সাহা। মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামান। এদিন ঋতব্রতর তরফে স্পিকারের কাছে দাবি করা হয়েছে, আরও বেশ কয়েকজন তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন। তবে ঘটনাচক্রে তারা এই মুহূর্তে উপস্থিত নেই। তাঁরাও পরবর্তীতে সই করবেন। 

তৃণমূলের বহু নেতাই দলের জন্মলগ্ন থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে রয়েছে। পার্টির উর্ধ্বে গিয়ে নেত্রী তাঁদের কাছে ‘দিদি’। কিন্তু পরবর্তীতে অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্যায়ের রকেটের গতিতে উত্থানে বিরক্ত তাঁরা। ফলে দিদির প্রতি আনুগত্য বজায় রাখবেন, নাকি ‘আসল তৃণমূলে’র শরিক হবেন, তা নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত অনেকেই। তাঁরা এই মুহূর্তে জল মাপছেন। পরবর্তীতে তাঁরাও ‘নতুন তৃণমূলে’র শরিক হবেন এই সম্ভাবনা প্রবল। তবে এই চিঠি পর্বে সব থেকে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এখানেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই উল্লেখ করা হয়েছে দলনেত্রীকে। যদিও এটা কৌশল বলেই দাবি ওয়াকিবহল মহলের। কারণ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ব্যবহারে আইনি ঝক্কি এড়ানো সম্ভব। পাশাপাশি এতে চাপ বাড়ানো যাবে নেত্রীর উপরও। তবে ‘আসল তৃণমূলে’র চাবিকাঠি এই মুহূর্তে স্পিকারের হাতে। সূত্রের খবর, বেশ কিছু নিয়মের গেরো রয়েছে বলে চিঠি গ্রহণ করে অধ্যক্ষ বিদ্রোহীদের বিকেল ৪ টে পর্যন্ত অপেক্ষার পরামর্শ দিয়েছেন। ফলে মনে করা হচ্ছে, আজই সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেবেন তিনি। এই চিঠি নিয়ে  ইতিমধ্যেই মুখ খুলেছেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, “তৃণমূলের প্রথম বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। এখন সিপিএম থেকে ঘাড় ধাক্কা খেয়ে তৃণমূলে আশ্রয় নেওয়া ঋতব্রত হবেন বিরোধী দলনেতা? প্রভাবশালীর হাত আছে বোঝাই যাচ্ছে। দল আইনি পথে যা করার করবে। যারা যাচ্ছেন, সেই এলাকার পুরনো বিজেপি কর্মীরা বিচার করবেন।” 

You might also like!