
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: স্পষ্টবক্তা হিসেবেই বলিউডে আলাদা পরিচিতি রয়েছে অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউতের। বিতর্ক যেন তাঁর নিত্যসঙ্গী। তবে সমালোচনা বা ট্রোল— কোনও কিছুই যে তাঁকে দমাতে পারে না, তা বারবার প্রমাণ করেছেন ‘ক্যুইন’ অভিনেত্রী। এবার কান চলচ্চিত্র উৎসবে ঐশ্বর্য রাই বচ্চনকে ঘিরে হওয়া বডি শেমিংয়ের বিরুদ্ধে সরব হলেন কঙ্গনা। চলতি বছরের কান চলচ্চিত্র উৎসবে একাধিক লুকে নজর কেড়েছেন ঐশ্বর্য। কখনও গোলাপি শিফন গাউন, কখনও বা সাদা ‘সোয়ান লুক’-এ যেন মোহময়ী রাই সুন্দরী। তবে প্রশংসার পাশাপাশি নেটমাধ্যমে কটাক্ষও কম হয়নি। অনেকেই তাঁর শারীরিক গঠন নিয়ে বিদ্রূপ করে ‘মোটা আন্টি’ বলেও মন্তব্য করেন। যদিও সেই সমস্ত ট্রোলের কোনও উত্তর দেননি ঐশ্বর্য নিজে।
তবে এবার অভিনেত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে কড়া বার্তা দিলেন কঙ্গনা রানাউত। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘ফ্যাশন আর স্টাইল আত্মপ্রকাশের একটি মাধ্যম। এটি মানুষের নিজের জীবনদর্শন ও মনোভাবের প্রতিফলন। একজন মহিলা কখনই কারও কাছে নিজেকে প্রমাণ করে বাধ্য নয়। ঐশ্বর্যকে দারুণ লাগছে। যাঁরা ওকে অন্যভাবে পরিকল্পনা করছে তাঁরা কেন নিজেরা আগে সেটা নিজের উপর প্রয়োগ করছেন না?’ এখানেই থেমে থাকেননি কঙ্গনা। আরও এক ধাপ এগিয়ে নীতিপুলিশদের উদ্দেশে তাঁর মন্তব্য, ‘ও কাউকে খুশি করতে কানের লাল গালিচায় হাঁটেননি। ও এক ও অনন্য, এক কথায় অসাধারণ। যাঁরা লাল কার্পেটে মধ্যবয়সী মহিলাদের দেখতে অভ্যস্ত নন, তাঁরা নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলান। ধন্যাবদ।’ প্রসঙ্গত, প্রাক্তন বিশ্বসুন্দরী তথা ‘কানের রানি’ রাই সুন্দরীর লুক একদিকে যেমন ব্যাপক প্রশংসিত তেমনই আবার ‘বডি শেমিং’-এর শিকার। ‘নীলপরি’ থেকে ‘সোয়ান লুক’-এ গ্ল্যামারের দ্যুতি ছড়িয়েছেন পঞ্চাশোর্ধ ঐশ্বর্য। বরাবরই নারীবিদ্বেষী মন্তব্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার কঙ্গনা। তাই ঐশ্বর্যকে ঘিরে কটাক্ষেও চুপ থাকলেন না তিনি। বরং নেটদুনিয়ার একাংশের মানসিকতাকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করালেন অভিনেত্রী।

প্রসঙ্গত, কান চলচ্চিত্র উৎসবের মঞ্চে ঐশ্বর্যের উপস্থিতি যেন আলাদা আকর্ষণ। বহু বছর ধরেই আন্তর্জাতিক এই মঞ্চে নিজের ফ্যাশন স্টেটমেন্ট দিয়ে চমক দিয়েছেন তিনি। এবছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বিশেষ করে অল-হোয়াইট ‘সোয়ান লুক’ এবং গাঢ় লিপ কালারে যেন নতুন করে নজর কেড়েছেন প্রাক্তন বিশ্বসুন্দরী। এবারের কানের আরও একটি বিশেষ আকর্ষণ ছিল ঐশ্বর্য কন্যা আরাধ্যার উপস্থিতি। মায়ের ছায়াসঙ্গী হয়ে লাল গালিচায় দেখা যায় চৌদ্দ বছরের আরাধ্যাকে। মা-মেয়ের সেই মুহূর্তও ইতিমধ্যেই ভাইরাল নেটদুনিয়ায়।
