
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: বদলের বাংলায় রাজ্য রাজনীতির উত্তাপ এবার ছড়িয়ে পড়েছে টলিপাড়াতেও। পূর্বতন সরকারের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত একাংশ শিল্পী ও সংগঠকদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন অভিনেতা, টেকনিশিয়ান থেকে মেকআপ আর্টিস্ট—অনেকেই। রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে বদলেছে বহু পরিচিত মুখের অবস্থানও। আর সেই আবহেই এবার নতুন বিতর্কের কেন্দ্রে অভিনেতা-পরিচালক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। সম্প্রতি বিজেপির ডাকা টলিপাড়ার এক বৈঠকে অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষের পাশে বসে পরমব্রত জানান, একসময় ফেডারেশন ইস্যুতে তাঁকে বাধ্য হয়েই ক্ষমা চাইতে হয়েছিল। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, “সেদিন আমার সদ্যজাত সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে, দাঁতে দাঁত চেপে ক্ষমা চেয়েছিলাম। আর কোনও উপায় ছিল না তাই।” সেই মন্তব্য সামনে আসতেই নেটমাধ্যমে শুরু হয় প্রবল সমালোচনা। কেউ তাঁকে ‘সুবিধেবাদী’, কেউ আবার ‘দলবদলু’ বলেও কটাক্ষ করেন।
এই আবহেই ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা জীতু কমলকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। সদ্য শেষ হয়েছে ধারাবাহিক ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’-এর শুটিং। ধারাবাহিকের শেষ পর্বে আর্য ও অপর্ণার জীবনে আসে সন্তান। সেই খুদের সঙ্গে কিছু আবেগঘন ছবি পোস্ট করেন জীতু। তবে ছবির থেকেও বেশি নজর কেড়েছে ক্যাপশন। অভিনেতা লেখেন, “সদ্যোজাত” — তারপর দাঁতের ইমোজির সঙ্গে ‘এ’ যোগ করে আরেকটি দাঁতের চিহ্ন। নেটিজেনদের একাংশের দাবি, এটি পরমব্রতের “দাঁতে দাঁত চেপে” মন্তব্যেরই ব্যঙ্গাত্মক ইঙ্গিত। যদিও সরাসরি কারও নাম উল্লেখ করেননি জীতু। এরপর আরও একটি পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমার তো নিজের দাঁতগুলোই ইন্ডাস্ট্রিকে দিয়ে দিলাম। যাক, শিল্পী মানুষ হতেই পারে।’ এই মন্তব্য ঘিরেও জোর চর্চা শুরু হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। অনেকের মতে, টলিপাড়ার বর্তমান রাজনৈতিক আবহ এবং শিল্পী মহলের অবস্থান বদল নিয়েই ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন অভিনেতা।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে ফেডারেশনের সঙ্গে মতবিরোধকে কেন্দ্র করে একাধিকবার বিতর্কে জড়িয়েছিলেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। সেই সময় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পর পরিস্থিতি জটিল আকার নেয়। পরে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব চলাকালীন এক ভিডিও বার্তায় তিনি ক্ষমা চেয়ে জানান, ফেডারেশনের বিরুদ্ধে আইনি পথে হাঁটা তাঁর হঠকারী সিদ্ধান্ত ছিল। ভবিষ্যতে আর কোনও সংঘাতে যেতে চান না বলেও জানিয়েছিলেন অভিনেতা। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর সেই পুরনো প্রসঙ্গই আবার নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। আর জীতুর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে জল্পনা আরও উসকে দিল টলিপাড়ার অন্দরের চাপা তরজা।
