
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্যে শিল্প বিনিয়োগ বাড়ানোর উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সেই লক্ষ্যেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে দুর্গাপুরে শিল্পমহলের সঙ্গে বৈঠকে বসলেন রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। বৃহস্পতিবার পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুর সিটি সেন্টারের একটি বেসরকারি হোটেলে আয়োজিত এই বৈঠকে জেলার শিল্পপতি, উদ্যোগপতি এবং নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন শিল্পমন্ত্রী। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পূর্তমন্ত্রী অজয় পোদ্দার, শিল্প প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা মিশ্র, দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দুর্গাপুরের মহকুমা শাসক অঙ্কিতা আগরওয়াল। শিল্পক্ষেত্রে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং উদ্যোগপতিদের সমস্যার বিষয় নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
আসানসোল জুড়ে অনেক কারাখানা রয়েছে। অনেকগুলি বন্ধ হয়ে রয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানাও। তা চালু করা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। সেগুলি পুনরুজ্জীবিত করতে কেন্দ্র সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুরকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। সেই লক্ষ্যেই দুর্গাপুরকে কেন্দ্র করে শিল্পপতি, উদ্যোগপতি ও নতুন উদ্যোক্তাদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা চলছে। শুধু নতুন শিল্প নয়, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ হয়ে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানাগুলি পুনরুজ্জীবিত করতেও কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গেও আলোচনা চলছে।” অজয় পোদ্দার বলেন,” বাংলা যখন ভারতের গুরু হবে, ভারত তখন ‘বিশ্বগুরু’ হবে। প্রধানমন্ত্রীর পথনির্দেশিকা মেনে পশ্চিমবঙ্গ যেভাবে দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে চলেছ।”
রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বাংলার শিল্পের দুরদশা ঘোচাতে উদ্দ্যোগী হয়েছে রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই শ্যাম স্টিলের নতুন কারখানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি, রাজ্যে আমুলের কারখানা স্থাপনের কাজও এগোচ্ছে। লাক্স কোজির কারখানার সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এবার লক্ষ্য, প্রতিটি জেলায় নতুন শিল্প গড়ে তুলে কর্মসংস্থানের নতুন রাস্তা খুলে দেওয়া। সেই লক্ষ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে দুর্গাপুরে বৈঠক করলেন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। বৈঠক শেষে তাপস বলেন, “রাজ্যে শিল্প আনতে গেলে পরিবেশ ঠিক করতে হবে। প্রশাসন কীভাবে কাজ করছে, তাও দেখতে হবে।”
