
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: গত পাঁচ দশকে উন্নয়নের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ, বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ, প্রত্যাশিত অগ্রগতি থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। মঙ্গলবার শিলিগুড়িতে এক সরকারি অনুষ্ঠানে তিনি জানান, এই পরিস্থিতি বদলাতে পশ্চিমবঙ্গের জন্য ৭০ হাজার কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা অনুমোদন করেছে কেন্দ্র। অর্থমন্ত্রীর দাবি, দীর্ঘদিন কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব থাকায় একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। সেই ঘাটতি কাটিয়ে রাজ্যের পরিকাঠামো ও সামগ্রিক উন্নয়নকে গতি দিতেই এই বিপুল অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনায় উত্তরবঙ্গকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। কারণ, তাঁর মতে, দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চল উন্নয়নের দিক থেকে অবহেলিত ছিল। নতুন বিনিয়োগ ও প্রকল্পের মাধ্যমে সেই বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যেই এগোচ্ছে সরকার।
দু’দিনের উত্তরবঙ্গ সফরের দ্বিতীয়দিন মঙ্গলবার শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি হোটেলে অর্থমন্ত্রী শহরের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষও। এই অনুষ্ঠানে স্বপন দাশগুপ্ত বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন। রাজ্যে শিল্পে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান তিনি। উত্তরবঙ্গে যে জমির সমস্যা নেই, এমনকি সিন্ডিকেটরাজও দক্ষিণের থেকে কম তা কার্যত স্বীকার করে নেন অর্থমন্ত্রী। বৈঠকে বিগত সরকারের আমলে একের পর এক সমস্যার কথা উঠে আসে। তৎকালীন সরকারের সময় একের পর এক বিজনেস সামিটে কয়েক হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগের কথা উঠে এলেও সিকিভাগও বিনিয়োগ হয়নি। সেই অভিজ্ঞতা মাথায় রেখেই শিল্পপতিরা একের পর এক সমস্যার কথা তুলে ধরেন দুই মন্ত্রীর সামনে। তবে এবার আর কোনও ভুল নয় , বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করে তবেই বিনিয়োগের কথা জানান মন্ত্রীরা।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, “ইতিহাস নিয়ে মাথা ঘামাব না। বিগত সরকারের আমলে যা হয়েছিল সেটা সবাই জানে। আমাদের অর্থনৈতিক স্ট্যাটিজিতে উত্তরবঙ্গের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ স্থান আছে। সাধারণত আগে মানুষ উত্তরবঙ্গকে টি টিম্বার ও ট্যুরিজম হিসেবেই চিনত। সেগুলোও গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আজকে যে আধুনিক উদ্যোগ হচ্ছে সেগুলো উত্তরবঙ্গে নিয়ে আসার দায়িত্ব আমাদের। উত্তর-পূর্ব ভারতের গেটওয়ে গোটা বেঙ্গলের গেটওয়ে হতে পারে। এখানে কোনও বাঁধা নেই। দক্ষিণবঙ্গে যে পরিমাণ সিন্ডিকেটরাজ আছে ততটা এখানে নেই। আমরা এখানে একটা পরিকাঠামো তৈরি করব। আমরা চাইব মডেল ইন্ডাস্ট্রি , যেমন এআই, সেমি কনডাক্টর বা এই ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর যে ইন্ডাস্ট্রি রয়েছে সেগুলোর বিনিয়োগ আসুক।”
অন্যদিকে চা বাগান নিয়ে তিনি বলেন, “চা শিল্পে একটা বড় সংকট দেখা দিচ্ছে , বিরাট ক্ষতির আগেই আমরা সতর্ক করে দিতে চাই কী কী করতে হবে। যে বাগানগুলো বন্ধ হয়ে গিয়েছে সেই শ্রমিকদের অর্থনৈতিক সমস্যা মেটানোর জন্য অনেকগুলো পদক্ষেপ নিয়েছি। চায়ের গুরুত্ব কী করে বাড়ানো যায় তা নিয়ে নতুন পরিকল্পনা তৈরি হচ্ছে ৷”
