
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: তৃণমূল বিধায়ক নিশীথ কুমার মালিকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন দলেরই একাংশের কর্মী-সমর্থকরা। তাঁদের অভিযোগ, বিধায়ক দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। সেই কারণেই তাঁকে দেওয়া ভোট ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সূত্রের খবর, বর্ধমান উত্তর বিধানসভার একাধিক তৃণমূল কর্মী নিশীথ কুমার মালিকের উদ্দেশে এই চিঠি পাঠিয়েছেন। একইসঙ্গে চিঠির একটি কপি পাঠানো হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেও। কর্মীদের দাবি, তাঁদের দেওয়া ভোট বাতিল করে বর্ধমান উত্তর বিধানসভার ফল পুনর্গণনা করা হোক। ইতিমধ্যেই এই চিঠির একটি কপি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
তৃণমূল কর্মীদের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখেই তাঁরা বর্ধমান উত্তরের তৃণমূল প্রার্থীকে ভোট দিয়েছিলেন। আর সেই ভোট পেয়েই জেতেন নিশীথ কুমার মালিক। ভোটে জয়লাভের পর মমতার সঙ্গ ত্যাগ করে বিদ্রোহী শিবিরে নাম লেখান তিনি। এর জেরেই ক্ষুব্ধ হন তৃণমূল কর্মীরা। চিঠিতে লেখা হয়েছে, “নিশীথ কুমার মালিক যেহেতু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে চলা দলে নেই, তাই আমাদের প্রদেয় মূল্যবান ভোট বাদ দিয়ে তাঁর প্রদেয় ভোট গণনা করা হোক।” উল্লেখ্য, রাজ্যে পালাবদলের পর খানখান হয়ে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। মমতার সঙ্গ ছেড়ে ৬৫ জন জয়ী তৃণমূল বিধায়ক বিদ্রোহী শিবিরে নাম লিখিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন নিশীথও। বিদ্রোহীদের একাধিকবার ফেরত আসার বার্তা দিয়েছিলেন মমতা। কিন্তু তা সত্ত্বেও ফেরত আসেননি বিধায়করা। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তাঁরা বিদ্রোহী শিবিরে চলে যান।
সম্প্রতি ভোট ফেরত চাওয়ার এরকমই একটি চিঠি সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। চিঠিটি লেখেন বর্ধমান উত্তর বিধানসভার বাসিন্দা সন্দীপ ভট্টাচার্য। তিনি লেখেন, তিনি নিজের ও তাঁর স্ত্রী রূপালি ঘরুই ভট্টাচার্যের প্রদেয় ভোট ফেরত চান। তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে ভোট দিয়েছিলেন। তবে বিধায়ক নিশীথ কুমার মালিক নেত্রীর সঙ্গে ‘গদ্দারি’ করায় তিনি ভোটগুলি ফেরত চান।
