
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: বিরোধীদের আপত্তি ও তীব্র প্রতিবাদের মধ্যেই লোকসভায় পাশ হয়ে গেল পাবলিক এক্সামিনেশন (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যাক্ট, ২০২৪ সংশোধনী বিল। কেন্দ্রীয় সরকারের আনা এই বিলটি বুধবার ধ্বনি ভোটে অনুমোদন পায় সংসদের নিম্ন কক্ষে। সোমবার বিলটি পেশ হওয়ার পর টানা দু’দিন ধরে চলে আলোচনা। বিরোধীরা একাধিক প্রশ্ন তুললেও শেষ পর্যন্ত বিলটি পাশ হয়ে যায়। তবে বিরোধীদের দাবি সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই বিলের আলোচনায় অংশ নেননি।
নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের পরই দেশ জুড়ে বিক্ষোভ-আন্দোলন শুরু হয়। দিল্লির যন্তর মন্তরে অনশন, বিক্ষোভ শুরু করে ককরোচ জনতা পার্টি। দেশের ছাত্র-যুবরাও এই আন্দোলনে যোগ দেন। এরপরই চাপের মুখে কেন্দ্রীয় সরকার প্রশ্নফাঁস রুখতে কড়া পদক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত নেয়। জানানো হয়, পাবলিক এক্সামিনেশন (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) অ্যাক্ট ২০২৪- এ সংশোধন করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও প্রশ্নফাঁস রুখতে কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস দেন। সেই অনুযায়ী শুক্রবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় এই সংশোধনী বিলে অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর সংসদে বিল পেশ করা হয়। আজ লোকসভায় ধ্বনিভোটের মাধ্যমে এই বিল পাশ করানো হয়।
কী বলা আছে নতুন বিলে?
নতুন বিলে প্রশ্নপত্র ফাঁসে জেলের সাজা আরও বাড়ানো এবং আর্থিক জরিমানার কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে প্রশ্ন ফাঁসের অপরাধে তিন থেকে পাঁচ বছরের জেল এবং ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।
এই জরিমানার অঙ্ক বাড়িয়ে ১ কোটি টাকা করা হয়েছে। যদি পরিকল্পিতভাবে প্রশ্নফাঁস করা হয়, তাহলে অপরাধীদের ৫ থেকে ১০ বছরের জেল ও ন্যূনতম ১ কোটি টাকা জরিমানা করা হতে পারে। যদি কেউ অপরাধের অভিযোগ না জানান, তাহলে তাদেরও ১ কোটি টাকা জরিমানা করা হতে পারে।
নতুন বিল অনুযায়ী, প্রশ্নপত্র ফাঁসের পর দুই মাসের মধ্যে শেষ করতে হবে তদন্ত। পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে শেষ করতে হবে কেসের ট্রায়াল। পাঁচ মাস সুনির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে শেষ করতে হবে প্রক্রিয়া।প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পরই মুম্বই, কলকাতা, দিল্লি এবং মধ্য প্রদেশ হাইকোর্টে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস মামলার শুনানির জন্য ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট (Fast Track Court) গঠন করা হচ্ছে।
