
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: পুজোর আর বেশি দেরি নেই। নতুন পোশাক, সাজগোজের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেলেও চুলের অবস্থা যদি একেবারেই মনমতো না হয়, তাহলে চিন্তা থেকেই যায়। রুক্ষ ও নিষ্প্রাণ চুলের পাশাপাশি অনেকেরই চুলের ঘনত্ব কমে যাওয়ার সমস্যাও দেখা দেয়। বাজারচলতি নানা প্রসাধনী ব্যবহার করেও সবসময় মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ফল। তাহলে কি রাসায়নিক নির্ভর প্রসাধনী ছেড়ে প্রাকৃতিক কোনও উপায় বেছে নেওয়া যায়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, চুলের সুস্থতার জন্য বাইরে থেকে যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি খাবারের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। সেই তালিকায় থাকতে পারে পুষ্টিকর উপাদানে তৈরি একটি ঘরোয়া লাড্ডু। নিয়ম মেনে পরিমাণমতো খেলে এটি চুলের প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করতে পারে। ফলে চুলের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ও শক্তি বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে এই ঘরোয়া খাবার। একেবারে ঘরোয়া উপাদানে তৈরি করা যাবে এই লাড্ডু, পদ্ধতিও একেবারে সহজ।
∆ কী কী দিয়ে তৈরি হবে এই লাড্ডু?
থাকছে আমন্ড, আখরোট, ফ্ল্যাক্সসিড, কুমড়োর বীজ, তিল, চিয়া সিড, খেজুর, আমলকি ও শুকনো নারকেল কুচি। আমন্ড ও আখরোটে রয়েছে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও উদ্ভিজ্জ পুষ্টি। ফ্ল্যাক্সসিড, চিয়া সিড ও আখরোটে থাকে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। কুমড়োর বীজ ও তিলও বিভিন্ন খনিজ ও পুষ্টির উৎস। খেজুর ও গুড় লাড্ডুতে মিষ্টত্ব ও কার্বোহাইড্রেট যোগ করে। আমলকি আবার ভিটামিন সি-এর উৎস।
∆ কীভাবে বানাবেন?
প্রথমে আমন্ড, আখরোট, ফ্ল্যাক্সসিড, কুমড়োর বীজ, তিল ও চিয়া সিড আলাদা আলাদা করে অল্প আঁচে শুকনো খোলায় ভেজে নিন। খেয়াল রাখবেন, যেন পুড়ে না যায়। নামিয়ে ঠান্ডা হলে মিক্সারে দিয়ে গুঁড়ো করে নিন। তবে একেবারে মিহি করে ফেললে চলবে না। দানা দানা থাকতে বের করে নিন।
এবার কড়াইয়ে সামান্য দেশি ঘি গরম করে, তাতে গুড় গলিয়ে নিন। এর মধ্যে ভাজা বাদাম-বীজের মিশ্রণ, কুচি করা খেজুর, শুকনো নারকেল কুচি, আমলকি পাউডার ও সামান্য এলাচ গুঁড়ো দিয়ে ভাল করে মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি কিছুটা ঠান্ডা হলে হাতে চাপ দিয়ে ছোট ছোট লাড্ডুর আকার দিন। ঠান্ডা হলে এয়ারটাইট পাত্রে রেখে দিন। বাইরের জল-হাওয়া থেকে বাঁচানো গেলে, অনেকদিন অবধি এই লাড্ডু রেখে দেওয়া যাবে।
চুলের যত্ন মানেই শুধু শ্যাম্পু, সিরাম বা তেল নয়। চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও সুস্থতার জন্য শরীরের প্রয়োজন পর্যাপ্ত প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ভিটামিন ও বিভিন্ন খনিজ। তাই চুলের যত্নের রুটিনে খাবারের দিকটিও নজরে রাখা জরুরি। তবে মনে রাখা দরকার, কোনও খাবারই দ্রুত চুল বাড়িয়ে দিতে বা চুল পড়া পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে পারে না। বরং সুষম খাবারের অংশ হিসেবে পুষ্টিকর উপাদান নিয়মিত খেলে শরীর ও চুলের সামগ্রিক স্বাস্থ্যে সাহায্য করতে পারে।
