
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: গ্রীষ্মকাল মানেই রসালো আমের মৌসুম। আমের স্বাদে মজে থাকেন ছোট থেকে বড় সকলেই। তবে শুধু ফল নয়, আম গাছের পাতারও রয়েছে নানা উপকারিতা ও ব্যবহার। অনেকেই জানেন না, বাড়ির দৈনন্দিন কাজ থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যচর্চা এবং বাগান পরিচর্যাতেও আম পাতা অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আম পাতায় রয়েছে বিভিন্ন উপকারী উপাদান, যা নানা কাজে ব্যবহার করা যায়। চলুন জেনে নিই এর নানাবিধ ব্যবহার প্রণালী।
* আম পাতা শুকিয়ে নিয়ে তা গরম জলে ফুটিয়ে চমৎকার এক ধরনের ভেষজ চা তৈরি করা সম্ভব। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে এই চায়ের নানাবিধ স্বাস্থ্য গুণাগুণের কথা উল্লেখ করা গিয়েছে যা শরীর সতেজ রাখতে সাহায্য করে। প্রতিদিন সকালে এই ভেষজ পানীয় পানের অভ্যাস শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও বিশেষ সাহায্য করে থাকে।
* বাঙালি বাড়ি কিংবা ভারতীয় সংস্কৃতিতে শুভ অনুষ্ঠানে আম পাতার ব্যবহার অত্যন্ত প্রাচীন একটি প্রথা হিসেবে গণ্য করা হয়। উৎসব-পার্বণে ঘরের মূল প্রবেশদ্বারে তাজা আম পাতার মালা বা তোরণ ঝুলিয়ে দিলে তা দেখতে যেমন সুন্দর লাগে, তেমনই চারপাশের পরিবেশেও এক ধরনের ইতিবাচক শক্তি ছড়িয়ে পড়ে। শুভ কাজের পাশাপাশি বাড়িকে প্রাকৃতিক উপায়ে সাজিয়ে তোলার এটি হল অন্যতম সহজ একটি উপায়।
* গাছের যত্নে আম পাতার ব্যবহার অত্যন্ত কার্যকরী কারণ এতে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টিকর উপাদান থাকে। বাগানের টবের মাটি উর্বর করতে শুকনো আম পাতা কুচিয়ে কম্পোস্ট সারের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা অত্যন্ত লাভজনক। এই প্রাকৃতিক সার গাছের স্বাস্থ্য ভালো রাখার পাশাপাশি গাছের দ্রুত বৃদ্ধিতেও দারুণ সাহায্য করে থাকে।
* ঘরের স্যাঁতসেঁতে বা দুর্গন্ধ দূর করতে শুকনো আম পাতা দিয়ে চমৎকার ঘরোয়া পটপুরি তৈরি করে নেওয়া যায়। আম পাতার সঙ্গে কমলার খোসা, দারুচিনি, লবঙ্গ এবং সামান্য শুকনো ফুল মিশিয়ে ঘরের এক কোণে রেখে দিলে প্রাকৃতিকভাবেই সুন্দর সুগন্ধ ছড়ায়। কৃত্রিম এয়ার ফ্রেশনারের পরিবর্তে এটি হল সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব এবং সাশ্রয়ী একটি বিকল্প।

* ক্লান্তি দূর করতে এবং ত্বক সতেজ রাখতে স্নানের জলে আম পাতার ব্যবহার প্রাচীনকাল থেকেই বেশ জনপ্রিয়। গরম জলে কয়েকটি আম পাতা ভালো করে ফুটিয়ে সেই জল স্নানের জলের সঙ্গে মিশিয়ে নিলে এক অদ্ভুত আরামদায়ক অনুভূতি পাওয়া যায়। এই ভেষজ স্নান ত্বকের নানাবিধ সংক্রমণ দূর করার পাশাপাশি সারাদিনের ক্লান্তি নিমেষের মধ্যে দূর করতে সাহায্য করে থাকে।
* শুকনো বা প্রেস করা আম পাতা ব্যবহার করে চমৎকার সব নান্দনিক ও পরিবেশবান্ধব শিল্পকর্ম তৈরি করা সম্ভব। বইয়ের বুকমার্ক, হাতে তৈরি গ্রিটিং কার্ড কিংবা দেওয়াল সাজানোর ওয়াল আর্টে এই পাতাগুলি ব্যবহার করলে তা এক অভিনব রূপ ধারণ করে। প্লাস্টিকের তৈরি জিনিসপত্রের বদলে এই ধরনের পরিবেশবান্ধব ক্রাফট ঘরের সৌন্দর্যকে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে যায়।
* বাড়িতে মশা বা অন্যান্য ক্ষতিকারক কীটপতঙ্গের উপদ্রব কমাতেও আম পাতা এক আশ্চর্য ভূমিকা পালন করতে পারে। সন্ধ্যার সময় শুকনো আম পাতা সামান্য ধুনোর সঙ্গে পুড়িয়ে ধোঁয়া দিলে ঘরের মশা এবং মাছি সহজেই দূর হয়ে যায়। রাসায়নিক উপাদানে ভরা ক্ষতিকারক মসকুইটো রিপেলেন্টের চেয়ে এই প্রাকৃতিক পদ্ধতিটি স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত নিরাপদ বলে মনে করা হয়।
* মুখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং মাড়ির সমস্যা দূর করতে কচি আম পাতার ব্যবহার অত্যন্ত কার্যকরী বলে প্রমাণিত হয়েছে। কচি আম পাতা চিবিয়ে খেলে কিংবা পাতা ফোটানো জল দিয়ে কুলকুচি করলে মুখের দুর্গন্ধ নিমেষেই দূর হয়ে যায়। প্রাচীন ভারতীয় আয়ুর্বেদ চিকিৎসায় দাঁতের নানাবিধ সমস্যা সমাধানে আম পাতার এই ব্যবহার যুগ যুগ ধরে চলে আসছে।
প্রকৃতির অতি সাধারণ একটি উপাদান হয়েও আম পাতা নানাভাবে আমাদের কাজে লাগতে পারে। তাই আম খাওয়ার পর পাতাগুলিকে ফেলে না দিয়ে সঠিকভাবে ব্যবহার করলে তা যেমন পরিবেশবান্ধব হবে, তেমনই দৈনন্দিন জীবনের নানা কাজে উপকারও মিলতে পারে।
