
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: গ্রীষ্মকাল মানেই আমের মরশুম। বাজারে উঠেছে হিমসাগর, ল্যাংড়া, ফজলি, গোপালভোগ থেকে আম্রপালির মতো নানা জনপ্রিয় জাত। ফলের রাজাকে ঘিরে বাঙালির উচ্ছ্বাসও চোখে পড়ার মতো। কেউ আম খান সরাসরি, কেউ আবার বানান ম্যাঙ্গো শেক, আমের চাটনি বা নানা মিষ্টান্ন। তবে এই সুস্বাদু ফল খাওয়ার সময় কিছু বিষয়ে সতর্ক না থাকলে উপকারের বদলে অস্বস্তিই বাড়তে পারে।
পুষ্টিবিদদের মতে, আমে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক শর্করা, ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট থাকলেও কিছু খাবারের সঙ্গে এটি একসঙ্গে খাওয়া শরীরের জন্য খুব একটা উপযোগী নয়। ভুল খাদ্যসংমিশ্রণের কারণে হজমের সমস্যা, অম্বল, গ্যাস কিংবা পেটের অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। কী কী খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন? জেনে নিন বিস্তারিত।
* দই: আমের এই ‘শত্রু’ তালিকায় প্রথমেই রয়েছে বাঙালির অতি প্রিয় দই। গরমে ঠান্ডা ঠান্ডা দই-আম-চিঁড়ের যুগলবন্দি কার না ভালো লাগে! কিন্তু পুষ্টিবিদদের মতে, এই দুইয়ের মেলবন্ধন পেটের বারোটা বাজাতে ওস্তাদ। আম আর দই একসঙ্গে হজম করা শরীরের পক্ষে বেশ কঠিন। ফলে পেট খারাপের ঝুঁকি বাড়ে।
* উচ্ছে: একই রকম বিপজ্জনক হতে পারে দুপুরের পাতে উচ্ছে বা করলার পর আম খাওয়া। মুখের তেতো স্বাদ কাটাতে অনেকেই শেষ পাতে আম তুলে নেন। এই অম্ল-মধুর আর তিতোর লড়াই কিন্তু শরীরের অন্দরে মারাত্মক বিষক্রিয়া ঘটাতে পারে। বমি ভাব, মাথা ঘোরার মতো সমস্যা দেখা দেওয়া অস্বাভাবিক নয়।
* চড়া মশলাদার খাবার: বাঙালির রবিবারের দুপুরের খাসির মাংসের ঝোল বা চড়া তেল-মশলার রান্নার পর আম খাওয়ার অভ্যাসও ত্যাগ করা উচিত। আমের নিজস্ব অ্যাসিড মশলার উপাদানের সঙ্গে বিক্রিয়া করে নিমেষেই গ্যাস-অম্বল আর বদহজমের সমস্যা তৈরি করে।
* কোল্ড ড্রিঙ্কস: আজকাল আম খাওয়ার পর কোল্ড ড্রিঙ্কস খাওয়ার একটা চল হয়েছে। মনে রাখবেন, আম ও কোল্ড ড্রিঙ্কস— দুইয়েই চিনির পরিমাণ আকাশছোঁয়া। একসঙ্গে এই দুটি পেটে গেলে রক্তের শর্করা আচমকা মারাত্মক বেড়ে যেতে পারে।
* জল: সবশেষে আসে চিরন্তন নিয়ম। আম খেয়েই ঢকঢক করে জল খাওয়ার ভুলটি করবেন না। ফল খেয়ে জল খেলে বুকজ্বালা ও পেটের গোলমাল অবধারিত। আম খাওয়ার অন্তত আধ ঘণ্টা পর জল পানের অভ্যাস করুন। সুস্থ থেকে আমের স্বাদ উপভোগ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
গরমের দিনে আমের স্বাদ উপভোগ করতেই পারেন, তবে খাদ্যাভ্যাসে সামান্য সচেতনতা থাকলে ফলের রাজা শুধু রসনাই তৃপ্ত করবে না, শরীরকেও রাখবে সুস্থ ও সতেজ।
