
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: পুলিশ অনুমতি না দিলেও কর্মসূচি থেকে পিছু হটছেন না প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee। মঞ্চ বা মাইক বসানোর অনুমতি না মিললে রাস্তাতেই ধর্নায় বসার ঘোষণা করেছেন তিনি। এমনকি পুলিশ যেখানে বাধা দেবে, সেখানেই বসে প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেউ না থাকলেও মঙ্গলবার তিনি একাই পথে নামবেন। তাঁর কথায়, “গ্রেপ্তার করার হলে করুন। মারলে মার খাব।”
ভোট পরবর্তী হিংসা, হকার উচ্ছেদ-সহ একাধিক অভিযোগকে সামনে রেখে মঙ্গলবার পথে নামার কথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কলকাতার রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ে ধরনায় বসার কথা জানিয়ে পুলিশের কাছে অনুমতি চেয়েছিল তৃণমূল। মাইকের জন্যও অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। মমতার অভিযোগ, সাতদিন আগে এই অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। আজ রানি রাসমণি অ্যাভিনিউতে মঞ্চ তৈরি করার কাজ করতে গেলে বাধা দেয় পুলিশ। জানানো হয়, ওই এলাকায় ধরনা কর্মসূচি করা যাবে না। কর্মসূচির আগের দিন পুলিশের তরফে স্থান বদলের কথা বলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা। মঙ্গলবার দুপুর ১ টায় সকলকে ধরনা কর্মসূচিতে আসার জন্য অনুরোধ করেন তিনি। তাঁর আশঙ্কা, তৃণমূল নেতাকর্মীদের রাস্তায় আটকে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। কেউ না থাকলে তিনি একাই রাস্তায় বসে ধরনা করবেন বলে জানান তৃণমূল নেত্রী। বাংলায় গণতান্ত্রিক আন্দোলন করতে না দিলে দিল্লিতে গিয়ে আন্দোলন করার হুঁশিয়ারি দেন মমতা। তাঁর কথায়, “আমাকে ছেড়ে রাখলে বিপদ আছে। কারণ আমি মাথানত করি না। আমাকে আপনারা মেরে ফেলতে পারেন। আমার কণ্ঠ স্তব্ধ করে দিতে পারেন।”উল্লেখ্য, তৃণমূলের কর্মসূচি প্রসঙ্গে পুলিশের তরফে জানানো হয়, মঙ্গলবার রানি রাসমণি অ্যাভিনিউতে ধরনা কর্মসূচি করা যাবে না। ওয়াই চ্যানেলে মঙ্গলবার দুপুর ২টো থেকে ৪টে পর্যন্ত ধরনা কর্মসূচি করতে পারে তৃণমূল। এরপর দল সূত্রে জানা যায়, রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ের পরিবর্তে মঙ্গলবার ওয়াই চ্যানেলে ধরনা কর্মসূচি করবে তৃণমূল।
সই জাল কাণ্ডে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে তৃণমূল বহিষ্কার করেছে। এই মুহূর্তে তৃণমূলের বিধায়ক সংখ্যা ৮০ থেকে কমে ৭৮ হল। বঙ্গ রাজনীতিতে চর্চা, তৃণমূল কংগ্রেসে বড়সড় ভাঙন হতে চলেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের ৫০ জন বিধায়ক দল ছেড়ে বেরিয়ে যেতে পারেন! ‘নতুন তৃণমূল’ ঋতব্রত-সন্দীপনদের মাধ্যমে তৈরি হচ্ছে! সেই গুঞ্জনও চলছে বঙ্গ রাজনীতিতে। তেমন হলে তৃণমূল কংগ্রেস বিরোধী দল হিসেবেও মর্যাদা পাবে না রাজ্যে।
শুধু তাই নয়, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকও হাতছাড়া হতে পারে নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে। অতীতে মহারাষ্ট্রের রাজনীতি এই ঘটনা ঘটেছে। এনসিপি ভাঙার কারণে শরদ পওয়ারের থেকে ক্ষমতা চলে গিয়েছিল। শিবসেনাতেও ভাঙন হয়েছিল। বিধায়করা বেরিয়ে যাওয়ায় উদ্ধব ঠাকরের হাত থেকে দলের রাশ চলে গিয়েছিল। প্রতীকও হাতছাড়া হয়েছিল। সেই একই ঘটনা ঘটতে চলেছে তৃণমূলে! সেই জল্পনা আরও বেড়েছে।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা বহিষ্কারের পরই তৃণমূলের বিরুদ্ধে বোমা ফাটাতে শুরু করেছেন। তৃণমূলের দুর্নীতি নিয়ে সরকারকে চিঠি লেখার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন ঋতব্রত। “আমি যা যা জানি… বলতে পারি। সরকারকে দুর্নীতির বিষয়ে চিঠি লিখে জানাব।” সেই কথা বলেন তিনি। এদিনই তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফেসবুক লাইভ করেন। নাম না করেই ঋতব্রতদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন। বিজেপি দল ভাঙার চেষ্টা করছে, সেই আশঙ্কাও করেছেন নেত্রী।
এদিন মমতা বলেন, “আমি বড় খেলোয়ার।” নাম না করে ঋতব্রতকে আক্রমণ করে বলেন, “সিপিএম করত। আমাদের ভুল হয়েছে তাঁকে টিকিট দেওয়া। পায়ে এসে পড়েছিল। সেদিন সিপিএম ঠিক করেছিল। অত্যন্ত এই একটি ক্ষেত্রে আমি তাঁদের প্রশংসা করি। তা সত্ত্বেও আমরা তাঁকে দু’বার সাংসদ করেছি। অন্য লোকের টিকিট কেটে তাঁকে হাওড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে। এরা যে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, সেজন্য ক্ষমা করিনি।”
