
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: শুভেন্দু অধিকারী সরকারের প্রশাসনিক তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগ, পূর্বতন সরকারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা একাধিক পুরুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকছিল। অন্নপূর্ণা যোজনা চালুর প্রস্তুতির সময় এই অনিয়ম ধরা পড়ে। ঘটনায় ইতিমধ্যেই কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এবার সেসব ‘পুরুষ’ লক্ষ্মীদের খোঁজে আরও কড়া নবান্ন। সিট গঠন করে তদন্তের নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার নবান্নে দাঁড়িয়ে সাংবাদিক বৈঠকে সেকথা জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এদিন বলেন, “এখনও পর্যন্ত মোট ২২টি ভুয়ো অ্যাকাউন্ট পাওয়া গিয়েছে। যেখান থেকে পুরুষদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ঢুকছে। ১টি অ্যাকাউন্ট রাকিবুলের, আরও ১৫টি মুস্তাফিজুর রহমান ও তার স্ত্রী তুহিনার, বাকি ৬টি অ্যাকাউন্ট তারিকুল রহমানের।” অন্নপূর্ণা যোজনার ১২ পাতার দীর্ঘ ফর্ম নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ তুলে শুভেন্দু আরও বলেন, “যারা ১২ পাতা, ১৬ পাতা, ১৮ পাতা করছেন – জনগণের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত নেতা ও তাদের দলকে বলব সংখ্যাটা কত হবে আমরা জানি না। অনুপ্রবেশকারী, হাজার হাজার তৃণমূল নেতা – যারা মহিলা নন – তারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার লুট করছেন। আমরা কাউকে ছাড়ব না। সিট গঠন করতে বলেছি। আমরা হিসাব করে দেখেছি। রাকিবুল, মুস্তাফিজুরদের বিরুদ্ধে ব্য়বস্থা হবে। লুটেরাদের পার্টি কীভাবে লুট করেছে এটা তার প্রমাণ। তৃণমূল স্তর থেকে খতিয়ে দেখা হবে।”
অন্নপূর্ণা যোজনা প্রসঙ্গে এদিন মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে মিথ্যা প্রচার চলছে। ফর্মপূরণ করতে এগিয়ে এসেছেন অনেকে। জনগণ সহযোগিতা করেছেন। সোমবার থেকে অনলাইনে চালু হয়ে গিয়েছে। আশা করছি বুধবার আরও অনেকের ফর্ম ফিলআপের কাজ হয়ে যাবে।” ওইদিনই পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার বৈঠক হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
শনিবার সোনারপুরে গিয়ে জনরোষের মুখে পড়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ডিম-ইট ছোড়া শুধু নয়, তাঁর জামাও ছিঁড়ে দেওয়া হয়। নাম না করে সোমবার সাংবাদিক বৈঠক থেকে সেই ইস্যুতে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “আমজনতার ক্ষোভ আছে। তৃণমূলের নেতা-বিধায়ক-সাংসদরা জনরোষের মুখে পড়ছেন। কিন্তু আমি বলব, আইন হাতে তুলে নেবেন না। পুলিশ রয়েছে, তাঁদের নিজেদের কাজ করতে দিন।”
পালাবদলের পর থেকে তৃণমূলের তরফে বারবার অভিযোগ করা হয়েছে তাঁদের দলের নেতাদের উপর আক্রমণ করছে বিজেপির নেতা-কর্মীরা। যদিও পদ্মশিবিরের নেতারা বারবার দাবি করেছেন, তাঁদের কর্মীরা কোনও অশান্তির সঙ্গে জড়িত নয়। পাশাপাশি যদি দলের কেউ কিছু করে থাকে তাঁদের গ্রেপ্তারের নির্দেশও দিয়েছেন। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিষয়টা জনরোষ। তৃণমূল নেতাদের সামনে পেলেই দীর্ঘদিনের চেপে থাকা রাগের বহিঃপ্রকাশ ঘটছে। যার পরিণতি, দিকে দিকে চোর স্লোগান, হামলা, ইটবৃষ্টির ঘটনা। শনিবার সোনারপুরেও তাঁর অন্যথা হয়নি। তৃণমূলের তরফে ভোট পরবর্তী হিংসায় সঞ্জু কর্মকারের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হলেও স্থানীয়রাই বলছেন অন্য কথা। তাঁদের দাবি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যে নিহত যুবকের বাড়িতে গিয়েছিলেন, তিনি অসামাজিক কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বছরের পর বছর বিভিন্নভাবে স্থানীয়দের হেনস্তা করেছেন। এলাকাবাসীর দাবি, ব্রেনস্ট্রোকে মৃত্যু হয়েছে সঞ্জুর। শনিবার সঞ্জু ও অভিষেক, দুজনের বিরুদ্ধে জমে থাকা ক্ষোভের জেরেই ডিম হামলা।
সোমবার নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে অভিষেকের নাম না করলেও হামলা প্রতিবাদ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমজনতার ক্ষোভ আছে। তৃণমূলের নেতা-বিধায়ক-সাংসদরা জনরোষের মুখে পড়ছেন। কিন্তু আমি বলব, আইন হাতে তুলে নেবেন না। পুলিশ রয়েছে, তাঁদের নিজেদের কাজ করতে দিন।” এরপরই তৃণমূলকে বিঁধে তিনি আরও বলেন, “একটা উঠে যাওয়া পার্টি, ফলতায় চতুর্থ হয়েছে। বাংলার রাজনীতিতে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে। দলের যারা দুর্নীতি করছে, তাঁদের সকলের শান্তি হবে। আপনারা কেউ আইন হাতে নেবেন না।”
