
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: গালের উপর ছোপ ছোপ কালচে দাগ, ঠোঁটের চারপাশে কিংবা নাকের ধারে বাদামি ছাপ—অনেক সময় প্রথম দেখায় তিল বা সাধারণ পিগমেন্টেশন বলে ভুল হয়। কিন্তু ধীরে ধীরে সেই দাগ স্পষ্ট হতে শুরু করলে অস্বস্তি বাড়ে। বিশেষ করে মুখের সৌন্দর্যে প্রভাব পড়লে আত্মবিশ্বাসেও টান পড়ে অনেকের।
ত্বকের এই সমস্যাকেই সাধারণত মেচেতা বা মেলাজমা বলা হয়। অতিরিক্ত রোদে থাকা, হরমোনের পরিবর্তন, অনিয়মিত জীবনযাপন কিংবা ত্বকে অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহারের কারণে এই দাগ দেখা দিতে পারে। অনেকেই দ্রুত ফল পাওয়ার আশায় পার্লারে গিয়ে ব্লিচ বা কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট করান। প্রথমদিকে দাগ কিছুটা হালকা হলেও কয়েকদিন পর ফের সেই সমস্যা ফিরে আসে। কখনও কখনও দাগ আরও গাঢ়ও হয়ে যেতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘরোয়া কিছু উপাদান নিয়মিত ব্যবহার করলেও উপকার মিলতে পারে। কোন ঘরোয়া উপাদান দারুণ কার্যকরী? জেনে নিন।
১) সবচেয়ে সহজ উপায় হল গোলাপ জল ও ফিটকিরির মিশ্রণ। ফিটকিরি গুঁড়ো করে তাতে সামান্য গোলাপ জল মিশিয়ে একটি প্যাক তৈরি করে নিন। মেচেতা আক্রান্ত জায়গায় হালকা হাতে মালিশ করুন। মিনিট পনেরো রেখে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের ট্যান কমবে। এবং ত্বকের রং হবে উজ্জ্বল।
২) যাঁদের ত্বক তৈলাক্ত, তাঁদের জন্য মুলতানি মাটি ও ফিটকিরি সেরা দোসর। সপ্তাহে মাত্র একদিন এই মিশ্রণ মুখে লাগালে শুধু দাগছোপ নয়, ব্রণর সমস্যা থেকেও মুক্তি মিলবে। তবে যাঁদের ত্বক অত্যন্ত শুষ্ক, তাঁরা ফিটকিরির সঙ্গে নারকেল তেল মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। রাতে ঘুমানোর আগে এই মিশ্রণ মেচেতার জায়গায় লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট পর মুখ ধুয়ে নিন। এতে ত্বক টানটান হবে এবং আর্দ্রতাও বজায় থাকবে।
৩) ফিটকিরিতে থাকা অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান ত্বকের গভীর থেকে ময়লা পরিষ্কার করে নতুন কোষ তৈরিতে সাহায্য করে। তবে মনে রাখবেন, সরাসরি ফিটকিরি ত্বকে ঘষবেন না। সবসময় গুঁড়ো করে অন্য কিছুর সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ।
এছাড়াও বাইরে বেরোনোর আগে সানস্ক্রিন ব্যবহার, পর্যাপ্ত জল খাওয়া এবং ত্বক পরিষ্কার রাখা খুবই জরুরি। কারণ যত্নের অভাবেই অনেক সময় ছোট দাগ বড় সমস্যার রূপ নেয়।
