
কলকাতা, ১৪ মে : ২৪ বছর পর তুরস্ক জায়গা করে নেয়েছে বিশ্বকাপের মঞ্চে। বাছাইপর্বের গ্রুপে স্পেনের পেছনে থেকে দ্বিতীয় হয়ে তুরস্ক এবার বিশ্বকাপে এল। তুরস্ক সর্বশেষ ২০০২ বিশ্বকাপে তৃতীয় হয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল সেমিফাইনালে উঠেl
ইতিহাস বলছে, তুরস্ক বিশ্বকাপে আসা মানেই নতুন কোনও রূপকথা লেখা। ১৯৫৪ সালে দক্ষিণ কোরিয়াকে গোলবন্যায় ভাসিয়ে ছিল তারা, কিংবা ২০০২ সালে হাকান শুকুরের সেই ১১ সেকেন্ডের রেকর্ড গড়া গোল এবং সেমিফাইনালে ওঠা। এ সবই তুর্কিদের লড়াই করার মানসিকতার পরিচয় দেয়। ২০২৬ বিশ্বকাপে এবার তাদের গ্রুপ ‘ডি’তে আছে অস্ট্রেলিয়া, প্যারাগুয়ে এবং স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র।
বিশ্লেষকদের মতে, এবারের তুরস্ক দলটি আগের দলের চেয়ে অনেক বেশি লড়াকু। রক্ষণভাগের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে কোচ মন্তেল্লা যে নতুন ছক কষেছেন, তা উত্তর আমেরিকার কন্ডিশনে বড় দলগুলোর কাছে একটা ভয়ের কারণ হতে পারে।
কোচ মন্তেল্লার অধীনে তুরস্ক গত আড়াই বছরে ২৪ ম্যাচের ১৬টিতে জয় পেয়েছে। ভাবা যায়। এবারও তারা ‘ডার্ক হর্স’ বলা যেতেই পারে। দুই দশক আগের সেই সোনালি গৌরব এবার বিশ্বকাপে ফিরিয়ে আনাই এখন নতুন প্রজন্মের একমাত্র লক্ষ্য।
প্রাক্তন ইতালীয় স্ট্রাইকার কোচ ভিনসেঞ্জো মন্তেল্লা যিনি তুর্কি সমর্থকদের কাছে দারুণ জনপ্রিয়। মন্তেল্লা তুর্কি আবেগের সঙ্গে মিশে গিয়ে বলেছেন, ‘আমি এখন নিজেকে একজন তুর্কির মতোই অনুভব করি এবং তাদের মতোই চিন্তা করি।'
দলের তারকা: আর্দা গুলে:
আর্দা গুলের এখন আর শুধু প্রতিভাবান নন, তুরস্কে তিনি দিয়েগো মারাডোনার মতোই মর্যাদা পাচ্ছেন। রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিয়ে নিজের জাদুকরি বাঁ পায়ে ইউরোপ মাতিয়ে এবার তিনি বিশ্বকাপের অন্যতম বড় আকর্ষণ। সেন্টার থেকে এবং প্লে-অফে অসাধারণ অ্যাসিস্টে সবার নজর কেড়েছেন। তাঁর পারফরম্যান্সে মুগ্ধ ফরাসি কিংবদন্তি থিয়েরি অঁরি মনে করেন, গুলের এখন আর শুধু ‘সম্ভাবনাময়ী’ নন, বরং তিনি এমন ফুটবলার যিনি একাই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারেন।
এক নজরে তুরস্ক:
**র্যাঙ্কিং: ২২
**সর্বোচ্চ সাফল্য: তৃতীয় স্থান (২০০২)
**অংশগ্রহণ: ৩ বার (১৯৫৪,২০০২,২০২৬)
**বিশ্বকাপে:
ম্যাচ ১০, জয় ৫, হার ৪, ড্র ১
২০২৬ বিশ্বকাপে :
**১৪ জুন অস্ট্রেলিয়া, ভ্যাঙ্কুভার, সকাল ১০টা
**২০ জুন প্যারাগুয়ে, সানফ্রান্সিসকো, সকাল ১০টা।
**২৬ জুন যুক্তরাষ্ট্র লস, অ্যাঞ্জেলেস, সকাল ৮টা।
