
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: জামাইষষ্ঠী মানেই এলাহি ভোজ। মাছ, মাংস, মিষ্টি—সব মিলিয়ে জামাই আপ্যায়নে কোনও খামতি রাখতে চান না শাশুড়িরা। তবে জুন মাসের দাবদাহে অনেকেই এখন ভারী ও তেল-মশলাদার খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাই এবারের জামাইষষ্ঠীর মেনুতে যদি একটু ভিন্ন স্বাদের ছোঁয়া আনতে চান, তাহলে ডিম হতে পারে আদর্শ পছন্দ।
পুষ্টিগুণে ভরপুর ডিম দিয়ে তৈরি করা যায় এমন কিছু রাজকীয় পদ, যা স্বাদে ও পরিবেশনায় সহজেই টক্কর দিতে পারে মাংসের রেসিপিকেও। বিশেষ করে গরমের দিনে তুলনামূলক হালকা অথচ মুখরোচক খাবার হিসেবে ডিমের নানা পদ অতিথিদেরও মুগ্ধ করবে।
১. নবাবী ডিমের কোফতা কারি: ডিমের ডালনা বা কালিয়া তো অনেক খেয়েছেন, এবার ট্রাই করুন ডিমের কোফতা।
কী কী লাগবে: সেদ্ধ ডিম ৪টি, সেদ্ধ আলু ২টি, পেঁয়াজ বাটা, আদা-রসুন বাটা, কাজুবাদাম বাটা, টক দই, গরম মশলা গুঁড়ো, বেসন ও পরিমাণমতো তেল-নুন।
বানানোর পদ্ধতি: প্রথমে সেদ্ধ ডিমগুলো গ্রেটার দিয়ে ভালো করে কুড়ে নিন। এবার ওর সঙ্গে সেদ্ধ আলু, সামান্য বেসন, নুন ও গোলমরিচ গুঁড়ো দিয়ে মেখে ছোট ছোট বলের আকারে গড়ে তেলে ভেজে তুলে রাখুন (কোফতা তৈরি)। এরপর কড়াইতে তেল গরম করে পেঁয়াজ, আদা-রসুন বাটা দিয়ে কষুন। মশলা থেকে তেল ছাড়লে কাজুবাদাম বাটা ও ফেটানো টক দই দিয়ে দিন। সামান্য জল দিয়ে গ্রেভি ফুটে উঠলে ভেজে রাখা কোফতাগুলো দিয়ে দিন। উপর থেকে গরম মশলা ও ঘি ছড়িয়ে নামিয়ে নিলেই তৈরি ‘নবাবী ডিমের কোফতা’। পোলাও বা পরোটার সঙ্গে এটি জমে যাবে।
২. ‘ডিম-বেগুন বাহার’: মাছের মাথা দিয়ে বেগুন বাহার অনেকেই খেয়েছেন, তবে ডিম আর বেগুনের এই যুগলবন্দী যেমন নতুন, তেমনই লোভনীয়।
কী কী লাগবে: সেদ্ধ ডিম ৪টি, চাকা চাকা করে কাটা গোল বেগুন ৪ টুকরো, টমেটো পিউরি, সর্ষে বাটা, কাঁচালঙ্কা, কালোজিরে, কাশ্মীরি লঙ্কার গুঁড়ো এবং সর্ষের তেল।
বানানোর পদ্ধতি: বেগুন ও সেদ্ধ ডিমগুলো নুন-হলুদ মাখিয়ে হালকা লাল করে ভেজে তুলে রাখুন। এবার কড়াইতে সর্ষের তেল গরম করে কালোজিরে ও কাঁচালঙ্কা ফোড়ন দিন। এতে টমেটো পিউরি এবং কাশ্মীরি লঙ্কার গুঁড়ো দিয়ে কষতে থাকুন। মশলা কষে এলে সর্ষে বাটা ও সামান্য জল দিন। গ্রেভি ফুটতে শুরু করলে ভাজা বেগুন ও ডিমগুলো দিয়ে ঢাকা দিন। বেগুন নরম হয়ে গ্রেভি মাখামাখা হলে উপর থেকে কাঁচা সর্ষের তেল ও চেরা কাঁচালঙ্কা ছড়িয়ে নামিয়ে নিন। গরম ভাতের সঙ্গে এর স্বাদ অতুলনীয়।

৩. গন্ধরাজ ডিমের কোরমা: গরমের দিনে গন্ধরাজ লেবুর রিফ্রেশিং ফ্লেভার কার না ভালো লাগে! মাংসের গন্ধরাজ পদ তো জনপ্রিয়, এবার পাতে আসুক গন্ধরাজ ডিম।
কী কী লাগবে: সেদ্ধ ডিম ৪টি, পেঁয়াজ বেরেস্তা ১ কাপ, আদা-রসুন বাটা, কাঁচালঙ্কা বাটা, নারকেলের দুধ ১ কাপ, গন্ধরাজ লেবুর রস ও লেবুর পাতা ৩-৪টি, ঘি ও সাদা তেল।
বানানোর পদ্ধতি: সেদ্ধ ডিমের গায়ে হালকা কাঠ লাগিয়ে সামান্য নুন দিয়ে সাদা তেলে হালকা ভেজে নিন (বেশি কড়া করবেন না)। এবার ওই তেলেই ঘি মিশিয়ে আদা-রসুন ও কাঁচালঙ্কা বাটা দিয়ে কষুন। এরপর নারকেলের দুধ ও স্বাদমতো নুন-চিনি দিন। গ্রেভি ঘন হয়ে এলে ভাজা ডিম ও পেঁয়াজ বেরেস্তা দিয়ে দিন। নামানোর ঠিক ২ মিনিট আগে গন্ধরাজ লেবুর পাতা হাতে একটু ছিঁড়ে এবং লেবুর রস উপর থেকে ছড়িয়ে গ্যাস বন্ধ করে ঢাকা দিয়ে রাখুন। ফ্রাইড রাইস বা বাসমতি চালের ভাতের সঙ্গে এই হালকা সুগন্ধী পদটি দারুণ লাগবে।
৪. চিজি এগ ট্রায়াঙ্গেল: জামাই যদি একটু মডার্ন বা ফিউশন খাবার পছন্দ করেন, তবে স্টার্টার হিসেবে বা শেষ পাতে এই পদটি চমক এনে দেবে।
কী কী লাগবে: ডিম ৪টি, পেঁয়াজ কুচি, ক্যাপসিকাম কুচি, ধনেপাতা কুচি, চিজ গ্রেট করা, গোলমরিচ গুঁড়ো, মাখন এবং টোস্ট করা পাউরুটি।
বানানোর পদ্ধতি: প্রথমে ৪টি ডিমের সঙ্গে পেঁয়াজ, ক্যাপসিকাম, ধনেপাতা কুচি, নুন ও গোলমরিচ গুঁড়ো দিয়ে খুব ভালো করে ফেটিয়ে নিন। এবার একটি চারকোণা পাত্রে মাখন মাখিয়ে ডিমের মিশ্রণটি ঢেলে ভাপিয়ে (Steam) নিন, যতক্ষণ না ডিম শক্ত হচ্ছে। ভাপানো ডিমটি ঠাণ্ডা হলে ছুরি দিয়ে ত্রিকোণ বা ট্রায়াঙ্গেল আকারে কেটে নিন। এবার প্যানে মাখন দিয়ে এই ডিমের টুকরোগুলো হালকা এপিঠ-ওপিঠ টোস্ট করে নিন এবং উপর থেকে প্রচুর পরিমাণে চিজ গ্রেট করে ছড়িয়ে দিন, যাতে চিজটা গলে যায়। পুদিনার চাটনি বা সসের সঙ্গে এই ‘চিজি এগ ট্রায়াঙ্গেল’ মুখে দিলেই মিলিয়ে যাবে।
ডিমে রয়েছে উচ্চমানের প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান। ফলে স্বাদের পাশাপাশি স্বাস্থ্যগত দিক থেকেও এটি একটি ভালো বিকল্প। তাই জামাইষষ্ঠীর ঐতিহ্য বজায় রেখেও যদি একটু নতুনত্ব আনতে চান, তাহলে মেনুতে জায়গা করে দিতে পারেন ডিমের এই রাজকীয় পদগুলিকে। জামাইয়ের মন জিততে এ বার মাংসের পাশাপাশি ভরসা রাখুন ডিমের এই পদের সমাহারে।
