
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: সমগ্ৰ বাংলায় শুরু হয়েছে ডিজিটাল জনগণনার প্রক্রিয়া। এবার প্রথমবারের মতো সাধারণ মানুষ বাড়িতে বসেই অনলাইনের মাধ্যমে সেলফ এনুমারেশন বা স্ব-নিবন্ধনের সুযোগ পাচ্ছেন। আগামী ১৫ আগস্ট পর্যন্ত নির্ধারিত পোর্টালে লগ-ইন করে নিজের ও পরিবারের তথ্য জমা দেওয়া যাবে।
যাঁরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে তথ্য জমা দিতে পারবেন না, তাঁদের জন্য ১৬ আগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শুরু হবে ‘ফিল্ড-এনুমারেশন’। এই পর্যায়ে জনসুমারিতে নিযুক্ত সরকারি কর্মীরা কলকাতা-সহ রাজ্যের সমস্ত জেলায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন। এরপর জনগণনার দ্বিতীয় ধাপে, ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত লিঙ্গভিত্তিক ও অন্যান্য জনসংখ্যাগত তথ্য সংগ্রহের কাজ চলবে।
∆ অনলাইনে জনগণনার জন্য কী কী তথ্য লাগবে?
সেলফ এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করতে সাধারণত নিম্নলিখিত তথ্যগুলি প্রস্তুত রাখতে হবে—
* প্রথমেই https://se.census.gov.in ওয়েবসাইটে যেতে হবে। সেখান থেকে নিজের রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল বেছে নিতে হবে। তারপর ‘OK’ ক্লিক করতে হবে।
* এবার পরিবারের প্রধান এবং তাঁর মোবাইল নম্বর দিতে হবে। ই-মেল আইডি দিতে হবে। যদিও না দিলেও চলবে। ক্যাপচা দিলে মোবাইলে আসবে ওটিপি। ওই ওটিপিতে ক্লিক করতে হবে।
* এবার একটি পেজ খুলবে। পছন্দের ভাষা নির্বাচন করতে হবে। আবারও নথিভুক্ত মোবাইল নম্বরে ওটিপি লিখতে হবে। ক্লিক করে ভেরিফাই ওটিপি করতে হবে।
* আবার একটি নতুন পেজ খুলবে। জেলা বেছে পিনকোড দিতে হবে। ল্যান্ডমার্ক বা আপনার এলাকার উল্লেখযোগ্য স্থান দিতে হবে। ম্যাপে লাল রঙের মার্কার থাকবে। সেখানে গিয়ে ল্যান্ডমার্ক চিহ্নিত করতে হবে।
* আরেকটি পেজ খুলবে। সেখানে আপনার বাড়ির বর্তমান অবস্থা সংক্রান্ত নানা প্রশ্নের জবাব দিতে হবে।
* তথ্যপূরণ করার পর পুরোটা বারবার যাচাই করতে হবে। প্রয়োজনে তথ্য বদলে নিন। পুরো তথ্য যাচাই করে তবেই সাবমিট করুন। আপনি চূড়ান্তভাবে ফর্ম জমা দিতে চান কিনা, সে তথ্য জানতে চাওয়া হবে। ‘ইয়েস’ বা ‘হ্যাঁ’ করলে তবে জমা দিতে পারবেন।
* ফর্ম জমার পরে একটি ১১ সংখ্যার ইউনিক আইডি ‘এসই আইডি’ দেওয়া হবে। সেটি অবশ্যই লিখে রেখে দিন। এসএমএসের মাধ্যমে ফোনেও পাবেন সেই আইডি। ই-মেলেও আইডি পাবেন। গণনাকারী যখন বাড়িতে আসবেন, তাঁকে সেই আইডি দিতে হবে।
তবে অনলাইনে সেলফ এনুমারেশনের ক্ষেত্রে পরিবারের প্রধানের নাম, মোবাইল নম্বরের ক্ষেত্রে ভুলভ্রান্তি যাতে না হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন। একবার নথিভুক্ত করার পর আর পরিবারের প্রধানের নাম আর পরিবর্তন করা যাবে না। তাই ফর্মপূরণের সময় আপনাকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সঠিক ও নির্ভুল তথ্য প্রদান করলে জনগণনার কাজ আরও দ্রুত এবং স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অনলাইনে তথ্য জমা দেওয়ার জন্য নাগরিকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।
