
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: ২৬ জানুয়ারি—আমরা এই দিনটিকে চিনি ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস হিসেবে। কিন্তু জানেন কি, এই দিনটাই একসময় ভারতের স্বাধীনতা দিবস হওয়ার কথা ছিল? ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে কেন সেই সিদ্ধান্ত বদলাতে হয়েছিল, তার পিছনে রয়েছে স্বাধীনতা আন্দোলনের গভীর রাজনৈতিক তাৎপর্য।
∆ ২৬ জানুয়ারির ঐতিহাসিক গুরুত্ব: ১৯২৯ সালের ডিসেম্বর মাসে লাহোরে অনুষ্ঠিত হয় ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশন। সেই অধিবেশনেই সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয় এক ঐতিহাসিক প্রস্তাব—‘পূর্ণ স্বরাজ’। অর্থাৎ ব্রিটিশ শাসনের অধীনে ডোমিনিয়ন স্ট্যাটাস নয়, ভারতের লক্ষ্য হবে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা। এই প্রস্তাবের সঙ্গে সঙ্গেই ঘোষণা করা হয়, ১৯৩০ সালের ২৬ জানুয়ারি দিনটি পালিত হবে ভারতের স্বাধীনতা দিবস হিসেবে।
এরপরই সারা দেশে ব্যাপক উদ্দীপনায় ২৬ জানুয়ারি পালন করা হয়। বিভিন্ন জায়গায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শপথ গ্রহণ ও স্বাধীনতার দাবিতে সভা-সমাবেশে মুখর হয়ে ওঠে দেশ। সেই দিনটি ভারতীয়দের কাছে স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছিল।
∆ তাহলে স্বাধীনতা এল ১৫ আগস্টে কেন?
পরবর্তীকালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং ব্রিটিশ সরকারের চাপের কারণে স্বাধীনতা প্রাপ্তির সময়সূচি বদলে যায়। অবশেষে ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীনতা লাভ করে। ঐতিহাসিক বাস্তবতায় সেই দিনটিই ভারতের স্বাধীনতা দিবস হিসেবে স্থায়ীভাবে স্বীকৃতি পায়।
∆ কেন প্রজাতন্ত্র দিবস হলো ২৬ জানুয়ারি?
যদিও স্বাধীনতা দিবস হিসেবে ২৬ জানুয়ারি কার্যত বাতিল হয়ে যায়, তবুও দিনটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব ভুলে যাননি দেশনেতারা। তাই ভারতের সংবিধান কার্যকর করার জন্য প্রতীকীভাবে বেছে নেওয়া হয় এই দিনটিকেই। ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে একটি প্রজাতন্ত্র রাষ্ট্রে পরিণত হয়। সেই থেকেই দিনটি পালিত হচ্ছে প্রজাতন্ত্র দিবস হিসেবে।
∆ ইতিহাসের স্মৃতিতে ২৬ জানুয়ারি: আজও ২৬ জানুয়ারি শুধু একটি জাতীয় উৎসব নয়, বরং এটি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের আত্মত্যাগ, সংকল্প এবং স্বরাজের স্বপ্নের স্মারক। যদি সময়ের চাকা অন্যভাবে ঘুরত, তবে হয়তো এই দিনটিই হত ভারতের স্বাধীনতা দিবস।
ইতিহাস বদলালেও ২৬ জানুয়ারি আজও ভারতের আত্মমর্যাদা ও গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতীক হিসেবে স্বমহিমায় বিরাজমান।
