
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ পড়ে থাকা টাকা চোখে পড়লে স্বাভাবিকভাবেই মনে নানা প্রশ্ন জাগে। কেউ ভাবেন ভাগ্য খুলে গেল, আবার কেউ দ্বিধায় পড়েন—এই টাকা তোলা আদৌ ঠিক কি না। ছোটবেলা থেকে শোনা বিশ্বাস আর প্রচলিত ধারণার ভিড়ে বিষয়টিকে জ্যোতিষশাস্ত্র দেখছে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে। তাদের মতে, কুড়িয়ে পাওয়া টাকার পেছনেও লুকিয়ে থাকতে পারে বিশেষ ইঙ্গিত, যা সবসময় শুধুই শুভ বা অশুভের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
জ্যোতিষ মতে, রাস্তায় পড়ে থাকা টাকা কখনও অকারণে আমাদের চোখে পড়ে না। প্রতিটি ঘটনাই কোনও না কোনও ইঙ্গিত বহন করে। অনেক জ্যোতিষী মনে করেন, এই ধরনের ঘটনা আসলে ভাগ্যের সূক্ষ্ম বার্তা। এটি অশুভ হওয়ার চেয়ে বেশি ক্ষেত্রেই শুভ ইঙ্গিত হিসেবেই ধরা হয়, তবে তার ব্যাখ্যা, পরিস্থিতি এবং আচরণের ওপর নির্ভর করে।
যখন কোনও গুরুত্বপূর্ণ কাজের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে রাস্তায় টাকা পড়ে থাকতে দেখা যায়, তখন সেটিকে অত্যন্ত শুভ লক্ষণ বলা হয়। জ্যোতিষ মতে, এটি সেই কাজের সাফল্যের পূর্বাভাস। অর্থাৎ আপনি যে কাজে এগোচ্ছেন, সেখানে বাধা এলেও শেষ পর্যন্ত ফল আপনার পক্ষেই যাবে। এই বিশ্বাস বহু প্রাচীন শাস্ত্রীয় ধারণার সঙ্গে যুক্ত, যেখানে বলা হয় যাত্রাপথে প্রাপ্ত ধন সৌভাগ্যের প্রতীক।
খুচরো পয়সা কুড়িয়ে পাওয়ার বিষয়টিও আলাদা তাৎপর্য বহন করে। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে, রাস্তায় পড়ে থাকা কয়েন বা ছোট অঙ্কের টাকা শীঘ্রই কোনও সুখবর আসার ইঙ্গিত দেয়। সেই সুখবর আর্থিক হতে পারে, আবার ব্যক্তিগত জীবন বা কর্মক্ষেত্রের সাফল্যের সঙ্গেও যুক্ত হতে পারে। অনেক সময় এই ধরনের ঘটনা মানসিক চাপ থেকে মুক্তিরও বার্তা দেয়।
যদি রাস্তায় টাকাভর্তি মানিব্যাগ চোখে পড়ে, তবে সেটিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে ধরা হয়। শাস্ত্রমতে, এটি পৈতৃক সম্পত্তি বা অপ্রত্যাশিত আর্থিক লাভের যোগ নির্দেশ করে। তবে এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়মের কথা বলা হয়েছে। তা হল, মানিব্যাগ নিজের কাছে রেখে দিলে শুভ ফল নষ্ট হতে পারে। বরং প্রকৃত মালিককে খুঁজে ফিরিয়ে দিলে তবেই সেই শুভ শক্তি সক্রিয় থাকে। এই আচরণকে জ্যোতিষশাস্ত্রে ধর্ম ও কর্মের ভারসাম্য হিসেবে দেখা হয়।
অনেক জ্যোতিষী বিশ্বাস করেন, রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া টাকা আসলে মা লক্ষ্মীর ইঙ্গিত। লক্ষ্মী দেবী নিজে থেকে আপনার জীবনে প্রবেশ করতে চাইছেন, এমনটাই বোঝানো হয় এই ঘটনার মাধ্যমে। তবে লক্ষ্মীর কৃপা স্থায়ী করতে হলে লোভ নয়, কৃতজ্ঞতা এবং সদাচরণ জরুরি। তাই অনেকেই কুড়িয়ে পাওয়া টাকার কিছু অংশ দান করেন বা মন্দিরে অর্পণ করেন, যাতে সেই শুভ শক্তি বহুগুণে ফিরে আসে।
তবে সব ক্ষেত্রেই এই টাকা তোলা উচিত কি না, তা নির্ভর করে মানসিক অবস্থার ওপর। যদি টাকা তুলে মনে অপরাধবোধ, ভয় বা অস্বস্তি তৈরি হয়, তাহলে সেই টাকা না তুলে নেওয়াই ভালো। কারণ জ্যোতিষ মতে, মনই হল শক্তির প্রধান বাহক। অশান্ত মনে করা কোনও কাজ কখনও শুভ ফল দিতে পারে না।
সত্যিই কি কুসংস্কার?
বর্তমান সময়ে এই বিশ্বাসগুলিকে অনেকেই কুসংস্কার বলে উড়িয়ে দেন। তবে জ্যোতিষশাস্ত্র বিষয়টিকে অন্ধ বিশ্বাস হিসেবে নয়, বরং মানসিক এবং আধ্যাত্মিক ইঙ্গিত হিসেবে ব্যাখ্যা করে। রাস্তায় পড়ে থাকা টাকা আমাদের আচরণ, নৈতিকতা ও সিদ্ধান্তের পরীক্ষা নেয়। আপনি লোভের বশে কিছু করছেন, নাকি দায়িত্ববোধের পরিচয় দিচ্ছেন—সেটাই ভবিষ্যতের ফল নির্ধারণ করে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, রাস্তায় পড়ে থাকা টাকা তোলা মোটেও অশুভ নয়। বরং সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি ও আচরণ থাকলে এটি সৌভাগ্যের বার্তা হয়ে উঠতে পারে। জ্যোতিষ মতে, ভাগ্য তখনই সহায় হয়, যখন তার সঙ্গে মানবিকতা এবং সচেতনতা যুক্ত হয়। তাই পরের বার এমন ঘটনা ঘটলে ভয় নয়, বিচক্ষণতাকেই সঙ্গী করতে পরামর্শ দিচ্ছেন জ্যোতিষীরা।
