
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: বছরে একবারই দোল। রঙের উৎসবে রং না খেললে যেন আনন্দই অপূর্ণ থেকে যায়। কিন্তু এক দিনের এই উচ্ছ্বাস যদি চুল ও মাথার ত্বকের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তবে উৎসবের রং ম্লান হতে সময় লাগে না। তাই আগেভাগেই সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসক থেকে কেশচর্চাশিল্পীরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে পাওয়া অনেক আবির ও রঙে থাকে পারদ-সহ বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান। লাল, নীল, সবুজ—চকচকে যে কোনও রঙেই থাকতে পারে এইসব উপাদান। রং যত বেশি সময় ধরে চুল ও মাথার ত্বকের সংস্পর্শে থাকবে, ততই ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ে।
কেশবিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, রাসায়নিক মেশানো রং দীর্ঘক্ষণ চুলে লেগে থাকলে চুলের স্বাভাবিক প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এর ফলে শুরু হতে পারে মাথা চুলকানি, খুশকি, অ্যালার্জি এমনকি অতিরিক্ত চুল পড়ার সমস্যাও। রং খেলার সময় বাঁধনভাঙা আনন্দে অনেকেই তা টের পান না। কিন্তু সমস্যা দেখা দিতে পারে কয়েক দিন পর থেকেই।
∆ রঙে কোন ক্ষতি হতে পারে চুলে?
১। রাসায়নিকের সংস্পর্শে মাথার ত্বকের সংক্রমণ হতে পারে, চুল রুক্ষ হয়ে যেতে পারে।
২। অ্যালার্জিও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা জরুরি। চুল অতিরিক্ত রুক্ষ হয়ে গেলে ডগা ফাটার সম্ভাবনা বাড়ে। কী ভাবে রং মাখা হচ্ছে বা চুল ধোয়া হচ্ছে তার উপর ক্ষতির মাত্রা নির্ভর করে।
∆ চুল বাঁচিয়ে রং খেলবেন কী করে?
১। খোলা চুল উড়িয়ে রং মেখে কায়দা করে ছবি তুলতে নিশ্চয়ই ভাল লাগবে। তবে এতে চুলের ক্ষতি অনিবার্য। চুল খোলা থাকলে রংও বেশি ঢুকবে।
২। রং খেলার আগে রুক্ষ চুল হলে নারকেল তেল মেখে নিতে পারেন। চুলে রং করা থাকলে ব্যবহার করতে পারেন ভাল মানের লিভ ইন কন্ডিশনার, যা স্নানের সময়ে ধুয়ে ফেলতে হয় না। চুলের উপর পরত তৈরি করে। এতে রং চট করে চুলের ভিতর পর্যন্ত যাবে না। তা ছাড়া, শ্যাম্পু করলে চট করে উঠেও যাবে।
৩। চুল খোলা না রেখে, কায়দা করে বেঁধে নিতে পারেন। শাড়ি বা শালোয়ারের সঙ্গে আলগা খোঁপা বেশ মানাবে। খোঁপা না করলেও, বিনুনি করে কোনও কেশসজ্জা করতে পারেন।
৪। রং থেকে চুল বাঁচানোর আর একটি কৌশল ভেবে দেখতে পারেন। স্কার্ফ দিয়ে কায়দা করে চুল ঢেকে নিতে পারেন। পোশাকের সঙ্গে তা মোটেই বেমানান হবে না। অথচ চুল বাঁচানো যাবে।

∆ চুল ধোয়ার সঠিক কৌশল -
১। শুধু রং খেলার আগের সুরক্ষা যথেষ্ট নয়, রং খেলার পর কী ভাবে চুল পরিষ্কার করা হচ্ছে, তার উপরেও নির্ভর করে ক্ষতির বহর। রং তুলতেই অনেকে বার বার শ্যাম্পু করেন। এর ফলে চুলের যে স্বাভাবিক তৈলাক্ত ভাব থাকে, তা উধাও হয়ে যায়।
২। চিকিৎসক থেকে কেশচর্চা শিল্পীরা বলছেন, চুল থেকে রং তোলার নানা পন্থা আছে।আবির দিয়ে রং খেললে, প্রথমেই হাত দিয়ে আবির ঝেড়ে দিন। মোটা দাঁড়ার চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ালে অনেকটা আবির বেরিয়ে যাবে।
৩। তার পরে শ্যাম্পু করতে হবে ভাল করে। তবে গরম জল নয়, শ্যাম্পু করার সময় ব্যবহার করা প্রয়োজন ঈষদুষ্ণ জল। না হলে চুল আরও রুক্ষ হয়ে পড়তে পারে।
৪। রং যদি উঠতে না চায়, বার বার শ্যাম্পু করে রং তোলার চেষ্টা না করাই ভালো। ঘষাঘষিতে চুল ঝরবে বেশি। বড় জোর দু’বার শ্যাম্পু করা যেতে পারে। তার পরে কন্ডিশনার মাখা জরুরি।
∆ ক্ষতিপূরণ কী ভাবে হবে?
১। রং খেললে চুলের ক্ষতি কমবেশি হবেই। তবে কেশচর্চা শিল্পীরা বলছেন, সঠিক পরিচর্যায় কয়েক দিনের মধ্যে চুল আবার সুন্দর হয়ে উঠতে পারে। নিয়ম করে চুলের যত্ন জরুরি। মাঝেমধ্যে তেল মাসাজ, হেয়ার প্যাক সমস্যার সমাধান করতে পারে।
২। ঘরোয়া টোটকাও চুল ভাল রাখতে সাহায্য করে। অ্যালো ভেরা জেল, টক দই-নারকেল তেলের মাস্ক ব্যবহার করা যেতে পারে।
৩। চুলের বেশি ক্ষতি হলে, খুশকি, অ্যালার্জির সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভাল।
