
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: বৈশাখ মানেই নতুন বছরের উচ্ছ্বাস, রঙিন পোশাক আর সাজগোজের বিশেষ প্রস্তুতি। তপ্ত গরম উপেক্ষা করেই বাঙালি মাতেন উৎসবের আমেজে। পাটভাঙা তাঁত, হালকা সিল্ক কিংবা লাল-সাদা শাড়ির সঙ্গে মানানসই মেকআপ তো থাকেই, তবে সম্পূর্ণ লুক পেতে চুলের সাজও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
অনেকেই ভাবেন, নিখুঁত হেয়ারস্টাইল করতে গেলে পার্লারে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই। কিন্তু বাস্তবে খুব কম সময়েই ঘরে বসেই তৈরি করা যায় আকর্ষণীয় কেশসজ্জা। শুধু প্রয়োজন সামান্য কৌশল আর কিছু সহজ টিপস।
* ছোট চুলে কেতা: ছোট চুল নিয়ে দিশেহারা! শাড়ির সঙ্গে কোন কেতা হবে মানানসই, ভাবনায় পড়েছেন? চুল যদি মসৃণ এবং সোজা হয় তা হলে ‘লো বান’ কেশসজ্জা বেশ মানাবে। মাঝখান থেকে সিঁথি করে চুল ভাল করে আঁচড়ে নিন। দুই অংশের বেশ কিছুটা চুল পেঁচিয়ে এনে মাথার পিছনের ঠিক মাঝ বরাবর রাবার ব্যান্ড দিয়ে আটকে দিন। এ বার বাঁদিকের (পিছনের অংশের) কিছুটা চুল বাঁধা অংশের ভিতর দিয়ে ঢুকিয়ে দিতে হবে। একই ভাবে ডান দিকের চুলও রাবার ব্যান্ডের বাঁধা অংশের ভিতর দিয়ে কায়দা করে ঢুকিয়ে দিতে হবে। একেবারে শেষে লেজের মতো যে অংশটি থাকবে, সেটি রোল করে ববি পিন দিয়ে আটকে দিন। খোঁপা নয়, অথচ চুল সুন্দর করে বাঁধা হয়ে থাকবে। ঘাড় খোলা থাকবে বলে তপ্ত বৈশাখেও গরম লাগবে কম। চুলের সামনের দিকটি টেল কম্বের সাহায্যে একটু ফাঁপিয়ে দিন। চাইলে হালকা লকসের মতো ছোট চুল বার করে রাখতে পারেন।
* মাঝারি চুলের বাহারি সাজ: একপাশে সিঁথি করতে চাইলে এমন কেশসজ্জা মানাবে। চাইলে এটি চুল পাফ করে বা খানিকটা ফুলিয়েও করতে পারেন। প্রথমেই চুল খুব ভাল করে আঁচড়ে নিন। কিছুটা খোলা থাকবে বলেই সিরাম লাগিয়ে নিন, এতে মসৃণ দেখাবে চুল। সামনের দিকের চুল ২-৩ ইঞ্চি ছেড়ে মাথার সঙ্গে সমান্তরাল ভাবে সিঁথি কাটুন। পিছনের অংশের চুলটি টেল কম্বের (বিশেষ ধরনের চিরুনি) সাহায্যে অল্প ফাঁপিয়ে রাবার ব্যান্ড দিয়ে আটকে ববি পিন দিয়ে মাথার পিছন দিকে আটকে দিন। এবার সামনের আলাদা করা চুলটি ভাল করে আঁচড়ে নিয়ে অল্প ফাঁপিয়ে আঙুলের সাহায্যে পাকিয়ে নিয়ে কানের পাশে ববি পিন দিয়ে আটকে নিন। একই ভাবে সিঁথির অন্য দিকের চুলটিও পাকিয়ে নিয়ে কানের পাশে ববি পিন দিয়ে আটকে নিন। এ বার রাবার ব্যান্ডের সাহায্যে বাকি চুল বেঁধে নিন। চাইলে ফুলের মালা গজরার মতো করে জড়াতেও পারেন।
* লম্বা চুলের সহজ শৈলী: চুল ভালো করে আঁচড়ে পিছনের দিকে টেনে বেঁধে নিন। তার পরে আলগা বিনুনি করে খোঁপার মতো ববি পিন এবং ক্লিপ দিয়ে মাথার পিছনে আটকে নিন। চাইলে ফুলের ছোঁয়া রাখতে পারেন কিংবা কোনও চুলের অলঙ্কারও ব্যবহার করতে পারেন। সামনে থেকে খানিকটা চুল লকসের মতো বার করে দিন।
* কোঁকড়া চুলের সাজকথা: মসৃণ চুলে নানা রকম কেশসজ্জা করা যায়। তবে চুলের ধরন কোঁকড়া হলে ঝক্কিও বাড়ে। প্রথমত এমন চুল বড় ফুলে থাকে, তার উপর রুক্ষ হলে তাকে বাগে আনা কঠিন হয়ে যায়। প্রথমেই এমন চুল ভাল করে তেল মাসাজ় করে শ্যাম্পু করে নিন। কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। তার পরে মাখতে হবে সিরাম। এতে চুল কিছুটা নরম থাকবে। ফোলা ভাবও কমবে। চুল কাঁধ ছাপানো হলে মাথার উপর দিকে অর্ধেক চুল নিয়ে খোঁপা করতে পারেন। চুল আঁচড়ে উপরের দিক থেকে বেশ কিছুটা চুল নিয়ে পেঁচিয়ে খোঁপা করে নিন। খোঁপা থাকবে মাথার উপরে কিন্ত পিছন দিকে।
* ঢেউ খেলানো চুলে কোন বাহার: চুল পুরোপুরি মসৃণ বা সোজা নয়, আবার ঠিক কোঁকড়াও নয়, এমন চুলের সজ্জার ধরন শিখে নিন। একপাশে সিঁথি কেটে নিন। টেল কম্বের সাহায্যে কানের পাশ থাকে সমান্তরাল ভাবে চুল ভাগ করে নিন। ভাল করে চুলের ভাগ করা অংশ আঁচড়ে হালকা ফাঁপিয়ে টুইস্ট করে মাথার পিছনে আটকে দিন। দুই পাশেই একই ভাবে চুল টুইস্ট করে আটকাতে হবে। চাইলে খোলা চুলের নীচের অংশে আউটকার্ল করে নিতে পারেন।
তাই এই বৈশাখে শুধু শাড়ি আর মেকআপ নয়, সহজ কিন্তু স্মার্ট কেশসজ্জাতেই হয়ে উঠুন সবার নজরের কেন্দ্রবিন্দু।
