
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: বলা হয়, কোনো মানুষকে চেনার শ্রেষ্ঠ উপায় হলো তার সঙ্গে পথ চলা। ঘরের চার দেওয়ালে আমরা যতটা মার্জিত, বাইরের প্রতিকূলতায় ততটাই অকৃত্রিম। ভ্রমণে গেলে মানুষের ধৈর্য, সহনশীলতা এবং ত্যাগের মনোভাব খুব স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। যখন পরিকল্পনা মাফিক কাজ চলে না, তখনই বোঝা যায় সঙ্গী পরিস্থিতির সঙ্গে কতটা মানিয়ে নিতে দক্ষ। তাই জীবনের দীর্ঘ পথ চলার অঙ্গীকার করার আগে, একবার কোনো অজানার পথে পাড়ি দেওয়া জরুরি। সেই ছোট্ট সফরই হয়তো ভবিষ্যতের বড় কোনো সিদ্ধান্তের আয়না হয়ে দাঁড়াতে পারে।
একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ঘুরতে গেলে বুঝতে পারবেন সঙ্গী কতটা অ্যাডজাস্টেবল। কিন্তু ঘুরতে গেলেই হলো না, কিছু জিনিস মাথায় রাখাও জরুরি। সঙ্গীর সঙ্গে প্রথমবার ঘুরতে যাচ্ছেন, সে ক্ষেত্রে কিছু বিষয়ে সচেতন থাকুন।
একসঙ্গে বসে প্ল্যানিং সেরে রাখুন —
কতদিনের জন্য ঘুরতে যাবেন, কোথায় যাবেন, কোন কোন জায়গা ঘুরে দেখবেন, কী ধরনের হোটেলে রাত কাটাবেন— এই ধরনের বিষয়গুলো আগেই আলোচনা করে নিন। দু’জনের ইচ্ছে দু’রকম হতেই পারে। তাই এমন ভাবে পুরোটা প্ল্যান করুন, যাতে দু’জনের ইচ্ছেই পূরণ হতে পারে। ঘোরাকে কেন্দ্র করে যাতে দু’জনের মধ্যে মতের অমিল না হয়, সে দিকে খেয়াল রাখবেন।
বাজেট নিয়ে আলোচনা করুন —
বেড়াতে বেশ মোটা অঙ্কের টাকাই খরচ হবে। সেখানে মাথাপিছু কত টাকা করে খরচ হতে পারে, তার হিসাব তৈরি করুন। পাশাপাশি কে কত টাকা বিনিয়োগ করবেন, সেটাও আলোচনা করে নিন। এতে আগামী দিনে টাকাপয়সাকে কেন্দ্র করে ঝামেলা বা দ্বন্দ্ব এড়াতে পারবেন। চেষ্টা করুন দু’জনেই সমান টাকা খরচ করার।
একে অন্যের প্রতি ধৈর্য হারাবেন না —
বেড়াতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। যে কোনও ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে পারেন। তাই মানসিক ভাবে সব রকম পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকার চেষ্টা করবেন। পাশাপাশি একে অন্যের প্রতি অধৈর্য হয়ে পড়বেন না। ধৈর্য না হারিয়ে যৌথ ভাবে সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করবেন।
একসঙ্গে মুহূর্ত তৈরি করুন —
এই দিনগুলো আর ফিরে আসবে না। তাই যতটা সম্ভব আনন্দ করার চেষ্টা করুন। একসঙ্গে মুহূর্তগুলো উপভোগ করার চেষ্টা করুন। পাশাপাশি নতুন অ্যাক্টিভিটি ট্রাই করুন। নতুন নতুন অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করুন। চেষ্টা করুন যতটা সম্ভব নতুন মুহূর্ত ও স্মৃতি তৈরি করা যায়। ঘুরতে গিয়ে ঝামেলা এড়িয়ে চলুন।
