
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:বিশ্বকাপের মাঝপথেই থমকে গেল রিঙ্কু সিংয়ের পৃথিবী। শুক্রবার সকালে প্রয়াত হলেন তাঁর বাবা খাচান্দ্র সিং। মঙ্গলবার যখন বাবার শারীরিক অবস্থার অবনতির কথা শুনে ভারতীয় শিবির থেকে ছুটি নিয়ে গ্রেটার নয়ডায় ছুটে গিয়েছিলেন, রিঙ্কু হয়তো ঘুণাক্ষরেও ভাবেননি যে বাবার সঙ্গে সেটাই তাঁর শেষ দেখা হতে চলেছে। আজীবন দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে ছেলেকে আগলে রাখা খাচান্দ্র সিংয়ের প্রয়াণ কেবল রিঙ্কুর জীবনেই নয়, ভারতীয় ক্রিকেট মহলেও শোকের ছায়া নামিয়ে এনেছে। বিশ্বকাপের উন্মাদনার মাঝেই এই খবর টিম ইন্ডিয়ার সাজঘরকেও বিষণ্ণ করে তুলেছে।
এক বছর আগে লিভার ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছিলেন রিঙ্কুর বাবা খাচান্দ্র সিং। গত এক বছরে সমস্যা বাড়তে বাড়তে চতুর্থ পর্যায়ে পৌঁছে যায়। গত কয়েকদিন ধরে তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। তাঁকে গ্রেটার নয়ডার এনসিআর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত কয়েকদিন সেখানেই ভর্তি ছিলেন। গত কয়েকদিন একপ্রকার যমে-মানুষে টানাটানি চলছিল। তিনি মেকানিক্যাল ভেন্টিলেটর সাপোর্ট ও ‘কন্টিনিউয়াস রেনাল রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি’-তে ছিলেন। শুক্রবার সকালে ওই হাসপাতালেই মৃত্যু হয় খাচান্দ্র সিংয়ের।
সোমবার ভারতীয় দলের সঙ্গে চেন্নাই যান রিঙ্কু। চেন্নাই পৌঁছেই বাবার অসুস্থতার খবর পান তিনি। সঙ্গে সঙ্গে ভারতীয় শিবির থেকে ছুটি নিয়ে মঙ্গলবার ভোরে চেন্নাই থেকে নয়ডা গিয়ে বাবার সঙ্গে দেখা করেন। মাত্র একদিনের বিরতি কাটিয়ে বৃহস্পতিবার সকালেই দলের সঙ্গে যোগ দেন বাঁহাতি ব্যাটার। যদিও বৃহস্পতিবার জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে প্রথম একাদশে ছিলেন না তিনি। ফিল্ডিংয়ে অবশ্য নামতে হয়েছিল।
শুক্রবার সকালেই বাবার মৃত্যুর খবর পেলেন রিঙ্কু। খাচান্দ্র সিংয়ের প্রয়াণে শোকগ্রস্ত ভারতের ক্রীড়ামহল। এরপর বিশ্বকাপের বাকি অংশে রিঙ্কুকে পাওয়া যাবে কিনা সেটা নিয়ে বড়সড় সংশয় তৈরি হয়ে গেল। অবশ্য বিসিসিআই এ নিয়ে সরকারিভাবে কোনও মন্তব্য করেনি।
