
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: রাগ, দুঃখ কিংবা নিছক আড্ডা—বাঙালির যে কোনও মুহূর্তের সঙ্গী চা। শীতের কনকনে ঠান্ডা হোক, গরমের দাবদাহ কিংবা বর্ষার ভেজা বিকেল, চায়ের কাপে চুমুক দিতে বাঙালির কোনও ঋতুতেই আপত্তি নেই। তাই শহরের অলিগলি থেকে ব্যস্ত রাস্তার মোড়, চায়ের দোকানে আড্ডার ভিড় লেগেই থাকে। কলকাতায় এমন বহু চায়ের দোকান রয়েছে, যেগুলির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। কোনওটি কয়েক দশক, আবার কোনওটি প্রায় একশো বছরের পুরনো। সময়ের সঙ্গে সেই ঐতিহ্যবাহী চায়ের দোকানগুলির চেহারায় বদল আনতে এবার উদ্যোগী হয়েছে টি বোর্ড। পুরনো ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখেই দোকানগুলির পরিকাঠামো ও পরিবেশে আধুনিকতার ছোঁয়া দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সোমবার চা নিলাম সংক্রান্ত একটি আলোচনাচক্রের আয়োজন করে টি বোর্ড। সেখানেই চা নিলাম ব্যবস্থার সংস্কার এবং উন্নতি নিয়ে বেশ কয়েকটি পরিকল্পনার কথা জানান। চা বিক্রির প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ করতে ভবিষ্যতে অনলাইন নিলামের উপর আরও জোর দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া চা ব্যবসার লাইসেন্স, অনলাইন শংসাপত্র দেওয়ার উপরেও জোর দেওয়া হয়েছে। চা পাতার সঠিক দাম পাওয়ার ক্ষেত্রে ছোট চাষিরা যাতে প্রতারিত না হন, সে কারণে কারখানাগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করছে টি বোর্ড।
এছাড়া জানা গিয়েছে, নতুন করে সাজিয়ে তোলার জন্য মোট সাতটি চায়ের দোকান বেছে নেওয়া হয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছে চিত্তবাবুর দোকান, বলবন্ত সিং ধাবা, কোনা দোকান, ন্যাশনাল ইকনমিক রেস্টুরেন্ট, শ্রীরামপুরের নরেশবাবুর টি স্টলও। এই দোকানগুলির সৌন্দর্যায়ন করা হবে। টি বোর্ডের চেয়ারম্যান সি মুরুগান বলেন, “আমরা চাইছি, হেরিটেজ দোকানগুলির সৌন্দর্যায়ন করতে। কোনও দোকান মালিক চাইলে আমরা তা করে দেব। প্রাথমিকভাবে কলকাতার ৭টি দোকানকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এমন আরও দোকানের খোঁজ চলছে।” টি বোর্ড চিহ্নিত দোকানগুলির সঙ্গে সাধারণ ক্রেতাদের আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। কারণ, সেখানকার খাবারে মুগ্ধ তাঁরা। টি বোর্ডের উদ্যোগে খুশি প্রায় সকলেই।
