
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বরাবরই আলোচনার কেন্দ্রে থেকেছেন প্রাক্তন বিশ্বসুন্দরী ও অভিনেত্রী সুস্মিতা সেন। তাঁর একাধিক সম্পর্ক নিয়ে নানা সময়ে চর্চা হলেও, প্রাক্তনদের মুখে আজও শোনা যায় তাঁর প্রশংসাই। সম্প্রতি শিল্পপতি ললিত মোদীর পর এবার পরিচালক বিক্রম ভাটও সুস্মিতার উদারতা ও ব্যক্তিত্বের প্রশংসায় মুখর হলেন। এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে বিক্রম ভাট জানান, জীবনের এক কঠিন সময়ে তাঁর পাশে ছিলেন সুস্মিতা। ১৯৯৬ সালে ‘দস্তক’ ছবির শুটিং চলাকালীন তাঁদের পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। সেই সময় বিক্রম কেরিয়ারে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন এবং আর্থিক পরিস্থিতিও খুব একটা ভালো ছিল না।
পরিচালকের দাবি, “বড় বড় প্রজেক্ট পরিচালনা এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে ওঠাবসা সত্ত্বেও হাতে টাকা প্রায় থাকত না বললেই চলে। বলিউডের বড় বড় তারকাদের সঙ্গে কাজ করলেও এক সময় চরম অর্থকষ্টে ভুগেছি। এমনও সময় গিয়েছে যখন মিউজিক সিডি কেনার মতো টাকাও জোগাড় করতে পারিনি। আমি যখন কেরিয়ারে প্রতিষ্ঠিত হতে সংগ্রাম করছি তখন বিষ খাওয়ার টাকাও ছিল না।” সেই সময়ে সুস্মিতা শুধু মানসিকভাবেই নয়, আর্থিকভাবেও পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বলে জানান বিক্রম। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক অবস্থার কারণে কখনও তাঁকে ছোট করে দেখেননি অভিনেত্রী। বরং সম্পর্কের সময় সবসময় সহযোগিতা করেছেন। এর আগে ললিত মোদীও এক সাক্ষাৎকারে সুস্মিতাকে নিয়ে প্রচলিত ‘গোল্ড ডিগার’ তকমাকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, “সুস্মিতা এতটাই সাবলম্বী যে তিনি কারও উপর নির্ভরশীল নন। তাই ‘গোল্ড ডিগার’ বা ‘ডায়মন্ড ডিগার’ তকমাগুলো ওঁর ইমেজের সঙ্গে একেবারে বেমানান।” মোদীর অকপট স্বীকারোক্তি, “আমি সুস্মিতার জন্য এক টাকাও কখনও খরচ করিনি বরং ও করেছে। নিজেকে মনে হয়েছিল ঘুরতে যাওয়ার জন্য ভাড়া করা প্রেমিক! আমার ভরণপোষণের দায়িত্ব নিয়ে নিয়েছিল।”

বিক্রম ভাটও সেই বক্তব্যেরই প্রতিধ্বনি করে বলেন, একজন সফল ও স্বাধীনচেতা নারী হিসেবে সুস্মিতাকে তিনি সবসময় শ্রদ্ধা করেন। যদিও তাঁদের সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হয়নি, তবুও সেই সময়ের স্মৃতি আজও তাঁর কাছে বিশেষ। অতীতের সম্পর্ক ও সংগ্রামের কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন পরিচালক। তাঁর কথায়, জীবনে ভালোবাসা হয়তো স্থায়ী হয়নি, কিন্তু দর্শকদের ভালোবাসাই তাঁকে এখনও এগিয়ে চলার শক্তি জোগায়।
