
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: তোলাবাজি, শ্লীলতাহানি-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া স্বরূপ বিশ্বাসকে শুক্রবার আলিপুর আদালতে পেশ করা হয়। আদালতের নির্দেশে আগামী ১৮ জুন পর্যন্ত তাঁকে পুলিশি হেফাজতে রাখা হবে। এই ঘটনার পর থেকেই টলিউডের অন্দরে দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ নতুন করে সামনে আসতে শুরু করেছে। এবার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তী।
স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই প্রায় ২২ লক্ষ টাকা তোলাবাজির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে কারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং অর্থ আদায়ের অভিযোগ কতটা সত্য, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থা। এই প্রসঙ্গে ঋত্বিক বলেন, “থ্রেট, শ্লীলতাহানি, অস্ত্র রাখার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তদন্ত হোক। পুলিশ তদন্ত করছে। কী বেরোয়? সেদিকেই তাকিয়ে আছি।” দীর্ঘদিন ধরেই টলিপাড়ার একাংশের অভিযোগ ছিল, রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে ইন্ডাস্ট্রির বিভিন্ন ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক প্রভাব বিস্তার করেছিলেন স্বরূপ বিশ্বাস। শিল্পী ও কলাকুশলীদের উপর চাপ সৃষ্টি, সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া এবং ভয়ের পরিবেশ তৈরি করার মতো অভিযোগও বারবার উঠে এসেছে বিভিন্ন মহলে।

স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেপ্তারি প্রসঙ্গে ঋত্বিক চক্রবর্তী বলেন, “এটা স্বস্তি তো বটেই। কারণ বহুদিন থেকেই অনেকে বলে আসছিলেন যে, একটা ভয়ের পরিবেশ ছিল। একটা থ্রেট কালচার ছিল। ওঁরা সবাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় সব কাজ করতেন। এই কথাটা সব জায়গাতেই তো লিখে বেড়াতেন ওঁরা। একা অরূপ বিশ্বাস নন, এখানেও হয়তো মমতার কোনও অনুপ্রেরণা থাকতে পারে। স্বরূপ বিশ্বাসরা সকলে আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণা ছাড়া কিছুই করতে পারতেন না। সব বিষয়েই এটা দেখেছি। একটা সুলভ শৌচালয় বানাতে গেলেও সেটাও ওনার অনুপ্রেরণাতেই হত। এত বড় বড় কাজ যখন হচ্ছিল, নিশ্চয়ই সেখানেও ওঁর কোনও অনুপ্রেরণা কাজ করেছে।” অতঃপর ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির এহেন দৈন্যদশায় ঋত্বিক চক্রবর্তী যে পরোক্ষভাবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতাকেই কাঠগড়ায় তুললেন, তা বলাই বাহুল্য।
অভিনেতার এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলেও নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। টলিউডের প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক কাঠামোয় দীর্ঘদিন ধরে যে অসন্তোষ জমে ছিল, স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেপ্তারির পর তা আরও স্পষ্টভাবে সামনে আসছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এখন তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে এবং অভিযোগগুলির সত্যতা কতটা প্রমাণিত হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে টলিউড এবং রাজনৈতিক মহলের।
