
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: টলিউডে নিষিদ্ধ শিল্পীদের মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনার দাবিতে কয়েক মাস আগে সরব হয়েছিলেন অভিনেতা-সাংসদ দেব। সেই সময় তিনি প্রকাশ্যে ‘৭২ ঘণ্টার চ্যালেঞ্জ’ ছুড়ে দিয়েছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে। বিষয়টি নিয়ে ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে যেমন আলোচনা তৈরি হয়েছিল, তেমনই নানা মহলে সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছিল তাঁকে। তবে ইন্ডাস্ট্রির বৃহত্তর স্বার্থে নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি দেব।
রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে শিল্পীদের কাজের সুযোগ দেওয়ার পক্ষেও একাধিকবার সওয়াল করেছেন তিনি। বিভিন্ন মতের শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রেও তাঁর ইতিবাচক মনোভাবের কথা টলিপাড়ায় বহুবার আলোচিত হয়েছে। সেই কারণেই দেবের এই অবস্থানকে অনেকেই শিল্পীসুলভ ও পেশাদার মনোভাবের পরিচয় বলে মনে করেন। এবার ফের এক ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট ঘিরে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেন দেব। সম্প্রতি ‘দেশু ৭’-এর শুটিং সেট থেকে অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্য-র সঙ্গে একটি ছবি ভাগ করে নেন তিনি। সেই পোস্টে লেখেন, “৭২ ঘণ্টা। সময় বদলায়, বিশ্বাস বদলায়, সত্যি কখনও বদলায় না। বন্যেরা বনে সুন্দর, শিল্পীরা শিল্পে। আজ দেশু ৭-এর প্রথম দিন, একসঙ্গে।”

দেবের এই মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। টলিপাড়ার এক প্রভাবশালী প্রাক্তন সংগঠককে উদ্দেশ্য করেই এই বার্তা বলে মনে করছেন অনেকে। আবার ‘শিল্পীরা শিল্পে’ মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি যে শিল্পীদের কাজের স্বাধীনতার পক্ষেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন, এমন ব্যাখ্যাও উঠে আসছে বিভিন্ন মহল থেকে। পোস্টে দেব ও অনির্বাণের একসঙ্গে কাজ করার খবর প্রকাশ্যে আসতেই উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েছেন দর্শকরা। ভিন্নধারার চরিত্রে নিজের অভিনয় দক্ষতার প্রমাণ বহুবার দিয়েছেন অনির্বাণ। ফলে ‘দেশু ৭’-এ এই দুই তারকার যুগলবন্দি কী নতুন চমক নিয়ে আসে, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন সিনেমাপ্রেমীরা।
উল্লেখ্য, প্রয়াত নাট্যব্যক্তিত্ব রাহুল অরুণোদয়ের মৃত্যুর সঠিক তদন্তের দাবিতে গত ৭ এপ্রিল টলিপাড়ায় কর্মবিরতির ডাক দেওয়া হয়েছিল। পরে শর্তসাপেক্ষে সেই কর্মবিরতি প্রত্যাহার করা হয়। সেই সময়ই নিষিদ্ধ শিল্পীদের কাজে ফেরানোর দাবিতে সরব হয়ে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছিলেন দেব। কয়েক মাস পর তাঁর সাম্প্রতিক পোস্টে সেই ‘৭২ ঘণ্টা’ প্রসঙ্গ ফের সামনে আসায় নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে টলিউডে।
