
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: হিন্দি ছবির দুনিয়ায় একাধিক কাজ করলেও হিন্দুস্তান বা বলিউড নিয়ে প্রকাশ্যে তেমন কথা বলতে দেখা যায় না দিলজিৎ দোসাঞ্ঝকে। এবার তাঁকে ঘিরে সেই বিষয়েই প্রশ্ন তুললেন গায়ক মিকা সিং। দিলজিতের অবস্থানকে ‘দ্বিচারিতা’ বলে কটাক্ষ করে ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন তিনি। মিকার অভিযোগ, বলিউডের দেশাত্মবোধক ছবি নিয়ে দিলজিৎকে সেভাবে সরব হতে দেখা যায় না। অথচ পাকিস্তানি শিল্পীদের সমর্থনে তাঁকে সোচ্চার হতে দেখা যায় বলে দাবি মিকার। শুধু দিলজিৎকে নিয়েই নয়, পাকিস্তানি মুসলিম এবং দুবাইয়ের মুসলিমদের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন গায়ক। তাঁর মন্তব্যকে ঘিরে ইতিমধ্যেই বিনোদন মহলে শুরু হয়েছে নতুন করে আলোচনা।
পাকিস্তানের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক বেশ মধুর। ২০১৯ সালে পাক সফরে গিয়েছিলেন। দীর্ঘ সাত বছর আগের স্মৃতিমেদুর অভিজ্ঞতা ভাগ করতে গিয়েই নিজস্ব মতামত পেশ করেন মিকা সিং।পাকিস্তানে মুসলিমরা যেভাবে গুরুদ্বারগুলির যত্ন করেন তা দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা ভাগ করতে গিয়েই মিকা অত্যন্ত হতাশার সঙ্গে বলেছেন, পাকিস্তানি মুসলিম আর দুবাইয়ের মুসলিমদের প্রতি কেন মানুষের এই ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তা বুঝতে পারেন না। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথোপকথনের সময় এই বিষয় বিস্তারিত আলোচনা করেন ৫০ বছর বয়সি এই গায়ক। মিকা জানান, পাকিস্তান বা সেখানকার মানুষ মোটেই খারাপ নন। ২০১৯ সালে পাক সফরের সময় তিনি উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়েছিলেন। পুরনো সেই দিনের স্মৃতিচারণ করে মিকার সংযোজন, “আমি যখন পাকিস্তান সফরে গিয়েছিলাম তখন আমাদের অনেক মুসলিম ভাই গুরুদ্বারগুলিতে সেবা করেছেন। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজেও অনেক সাহায্য করেছেন।”

গুরু নানক দেবের কথা বলার পাশাপাশি এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য ও উত্তরাধিকারের গুরুত্ব নিয়েও আলোচনা করেন। এই মর্মে পাকিস্তান ও সেখানকার মুসলিম জনগোষ্ঠী সম্পর্কে মিকার বক্তব্য, “পাকিস্তান খারাপ নয়। পাকিস্তানের মানুষও কোনও দিক থেকেই খারাপ নন। কিন্তু আমি আজও বুঝতে পারি না কেন পাকিস্তানের মুসলিমদের আমরা খারাপ মনে করি। অথচ দুবাইয়ের মুসলিমরা আমাদের নজরে ভীষণ ভালো। এর কারণটা আমি আজ পর্যন্ত বুঝতে পারিনি।” প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ৮ আগস্ট পাকিস্তানের করাচিতে একটি প্রাক বিবাহ অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশনের পর ভারতীয় সিনেমা তাঁকে ‘বয়কট’ করেছিল। অনুষ্ঠানের ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পের বিভিন্ন সংগঠনের অভিযোগ ছিল ভারত-পাকি সম্পর্কের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে মিকার কাছে অর্থই সর্বস্ব।
