
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ নির্বাচনী বন্ড অসাংবিধানিক, বাতিল হওয়া উচিত। নির্বাচন কমিশনের কাছে নির্বাচনী বন্ড নিয়ে তথ্য জমা করলে সুপ্রিম কোর্টের কাছে বাড়তি সময় চাইল স্টেট ব্যাঙ্ক। সূত্রের খবর, বিস্তারিত তথ্য জমা দিতে আগামী ৩০ জুন অবধি সময় চেয়েছে দেশের অন্যতম শীর্ষ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক।
নির্বাচনী বন্ডকে 'অসাংবাধিক' আখ্যা দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ এক রায়ে নির্বাচনী বন্ডকে ‘অসাংবিধানিক’ ঘোষণা করে। ওই বন্ড বাতিল হওয়া উচিত বলেও মনে করে শীর্ষ আদালত। রায়ে শীর্ষ আদালত জানায়, নির্বাচনী বন্ডের তথ্য জানার অধিকার (আরটিআই) আইনকে লঙ্ঘন করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়াকে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বন্ডের মাধ্যমে অনুদানকারীর তালিকা ভাগ করার নির্দেশ দেয়।
প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় বলেছেন, নির্বাচনী বন্ড মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে ও কালো টাকা নিয়ন্ত্রণের একমাত্র উপায় নয়। নির্বাচনী বন্ড বিক্রি বন্ধ করতে ব্যাঙ্কগুলিকে নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
প্রধান বিচারপতি জানান, ভারতীয় স্টেট ব্যাঙ্ক (এসবিআই) এই ধরনের বন্ড দেওয়া বন্ধ করবে। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচনী বন্ডের মাধ্যমে জমা পড়া অনুদান সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য তুলে দেবে। সুপ্রিম কোর্টের তরফে সময়সীমা বেঁধে দিয়ে বলা হয়, আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে কমিশনকে অনুদান সংক্রান্ত তথ্য তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে। আর নির্বাচনী বন্ড নিয়ে যাবতীয় তথ্য আগামী ৬ মার্চের মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে দেবে ভারতীয় স্টেট ব্যাঙ্ক (এসবিআই)। পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ তার পর্যবেক্ষণে জানায়, কালো টাকার বিরুদ্ধে লড়াই চলছে এবং অনুদান দাতাদের পরিচয় গোপন রাখা হচ্ছে— এই যুক্তিতে নির্বাচনী বন্ড চালু থাকতে পারে না।
ভোটে কালো টাকার লেনদেন বন্ধ করার কথা বলে নির্বাচনী বন্ড চালু করেছিল মোদী সরকার। এর ফলে কোনও ব্যক্তি বা কর্পোরেট সংস্থা রাজনৈতিক দলগুলিকে চাঁদা দিতে চাইলে, বন্ড কিনে সংশ্লিষ্ট দলকে দিতে হবে। ১ হাজার, ১০ হাজার, ১ লক্ষ, ১০ লক্ষ এবং ১ কোটি টাকা মূল্যের বন্ড পাওয়া যাবে। কিন্তু কে, কত টাকা দিচ্ছেন, তা বোঝা যাবে না। পরে নির্বাচনী বন্ড চালু হওয়ার পর তার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ ওঠে, বন্ড ভাঙিয়ে টাকা নেবে রাজনৈতিক দল, এতে অস্বচ্ছতাই বাড়বে। সেই নিয়ে মামলা দায়ের হয় সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চে।
