
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:নন্দীগ্রামে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে গ্রামবাসীদের মারধর ও ভয় দেখানোর অভিযোগ ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেস নির্বাচন কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে। শাসকদলের দাবি, সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স-এর কিছু সদস্য নাকি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন না করে রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতমূলক আচরণ করছেন এবং বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টি-এর প্রভাব অনুযায়ী কাজ করছেন।মঙ্গলবার নন্দীগ্রামের কাঞ্চনপুর এলাকায় এই ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা মারধরের অভিযোগ তোলেন এবং আহতদের ছবি প্রমাণ হিসেবে নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
তৃণমূলের অভিযোগ, সিআরপিএফ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনস্থ। এই আবহে বাহিনীকে বিজেপির স্বার্থে ব্যবহার করছেন অমিত শাহ। এই পরিস্থিতিতে অভিযুক্ত জওয়ানদের সাসপেন্ড করার দাবি তোলা হয়েছে তৃণমূলের তরফ থেকে। দাবি করা হয়েছে, নন্দীগ্রামের এই ঘটনায় চার জন আহত হয়েছেন। সেই ঘটনায় এলাকার মহিলারা রাস্তা নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে।
এদিকে নির্বাচনের একদিন আগে তৃণমূল কংগ্রেসের পতাকা এবং ব্যানার ছিঁড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। অভিযোগ অস্বীকার করে পালটা বিজেপির দাবি, রাতের অন্ধকারে এলাকায় লাগানো বিজেপির সমস্ত পতাকা, ব্যানার ছিঁড়ে দিয়েছে তৃণমূল। এদিকে এই অভিযোগ ও পালটা অভিযোগের জেরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা।
অপরদিকে ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগে নন্দীগ্রামে শেখ সুফিয়ানের জামাই তথা তৃণমূল নেতা শেখ হাবিবুল রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি নন্দীগ্রামের মহম্মদপুর পঞ্চায়েতের প্রধান। বিজেপির অভিযোগ, ভোটারদের টাকা বিলি ও হুমকি দেয় হাবিবুল। যদিও তৃণমূলের দাবি, হাবিবুল টাকা বিলি করেনি। বরং সে তৃণমূলের নেতা বলেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, এবারও নন্দীগ্রামে বিজেপির প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বিরুদ্ধে তৃণমূল এবার প্রার্থী করেছে পবিত্র করকে। গত বিধানসভা ভোটে এই আসন থেকেই শুভেন্দুর কাছে হারতে হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
