
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:ভোটের ঠিক আগে স্পর্শকাতর এলাকায় বাইক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে নতুন বিতর্কে জড়াল নির্বাচন কমিশন। এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বিষয়টি গড়াল কলকাতা হাই কোর্ট-এ। মামলাকারীর দাবি, কমিশনের এই নির্দেশ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে এবং অযথা ভোগান্তি সৃষ্টি করবে। সেই প্রেক্ষিতে বিচারপতি কৃষ্ণ রাও-এর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছেন। ফলে এখন আদালতের নজরে কমিশনের এই নির্দেশের বৈধতা ও যুক্তিসঙ্গততা—যা ভোটের আগে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলছে।
বৃহস্পতিবার রাজ্যের ১৫২টি বিধানসভা আসনে নির্বাচন রয়েছে। তার আগেই স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে বাইক চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কমিশন। মঙ্গলবার কমিশনের দেওয়া একটি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ভোটের দু’দিন আগে থেকে স্পর্শকাতর এলাকায় নিষিদ্ধ হচ্ছে বাইক র্যালি বা মোটরসাইকেল মিছিল। এমনকী সন্ধ্যা ৬ টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত নিষিদ্ধ থাকবে মোটরবাইক চালানোও। যদিও এক্ষেত্রে জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা কিংবা পরিবারের প্রয়োজনে বাইক চালানোর উপর রয়েছে ছাড়।
শুধু তাই নয়, বাইকে আরোহী বসানোর ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা নির্বাচন কমিশনের। ভোটের দু’দিন আগে সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বাইকের পিছনে কোনও আরোহীকে বসানো যাবে না বলে নিষেধাজ্ঞায় জানানো হয়েছে। তবে এক্ষেত্রেও রয়েছে কমিশনের ছাড়। কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, স্কুল পড়ুয়াকে পৌঁছে দেওয়া, চিকিৎসার প্রয়োজনে কিংবা পারিবারিক দরকারে ছাড় দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। কমিশনের এহেন বিজ্ঞপ্তিকে কেন্দ্র করেই চরমে ওঠে বিতর্ক। কড়া ভাষায় কমিশনকে আক্রমণ শানায় তৃণমূল। মন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী শশী পাঁজা জানান, বাইক চলাচলে নিষেধাজ্ঞায় সাধারণ জনগণের উপর প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে ডেলিভারি এজেন্সির সঙ্গে যুক্তরা বিশেষভাবে প্রভাবিত হবে। আর এরপরেই আজ, বুধবার মামলার অনুমতি চেয়ে বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ আইনজীবীর।
