
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হল সংঘর্ষবিরতির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করার পরেই হরমুজ প্রণালীতে একটি মালবাহী জাহাজে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে ইরান-এর বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, ঘোষিত সংঘর্ষবিরতি আদৌ কতটা কার্যকর থাকবে। একইসঙ্গে পাকিস্তান-এ প্রস্তাবিত ইরান-আমেরিকা শান্তি বৈঠকের ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের সামরিক উত্তেজনা চলতে থাকলে আলোচনার পরিবেশ তৈরি হওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
ট্রাম্পের ‘একতরফা’ সংঘর্ষবিরতি ঘোষণা নিয়ে এখনও পর্যন্ত প্রতিক্রিয়া দেয়নি ইরান। উলটে হরমুজে মার্কিন ‘দাদাগিরি’ নিয়ে আপত্তি করেছে তারা। এই অস্থির অবস্থায় ব্রিটিশ সেনার ‘ইউনাইডেট মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন’ জানিয়েছে, বুধবার সকাল ৭টা বেজে ৫৫ নাগাদ ইরানি সেনা একটি মালবাহী জাহাজে গুলি চালিয়েছে। ব্রিটিশ সেনার আরও দাবি, জাহাজটিতে হামলা চালানোর আগে সতর্ক করেনি ইরানি সেনার নজরদারি নৌযান। মনে করা হচ্ছে, এভাবে হরমুজে মার্কিন অবরোধ এবং তাদের জাহাজ বাজেয়াপ্ত করার বদলা নিল খামেনেইর দেশ।
সোমবার হরমুজ প্রণালীতে ইরানের দু’টি জাহাজ বাজেয়াপ্ত করেছিল ওয়াশিংটন। এই বিষয়ে ইরানের তরফে বলা হয়, “আমেরিকার এহেন কার্যকলাপ প্রমাণ করে দিচ্ছে যে তাদের সরকার একটি জঙ্গি সরকার। শুধু তা-ই নয়, তারা জলদস্যুও বটে।” পাশাপাশি, শান্তি আলোচনায় যোগদানে আমেরিকার সদিচ্ছা নিয়েও প্রশ্ন তোলে তারা। সূত্রের খবর, শান্তি বৈঠকে ইরানের যোগদানে অনীহার অন্যতম কারণ হল হরমুজে মার্কিন অবরোধ। অন্যদিকে, মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান জানিয়েছে, শান্তি বৈঠকে যোগদান নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তেহরান এখনও কিছু জানায়নি। পাক তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লা তারার তাঁর এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ‘ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনায় ইরান প্রতিনিধি দল পাঠাবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। আনুষ্ঠানিকভাবে তেহরান এখনও কিছুই জানায়নি। আমরা অপেক্ষায় আছি। ইরানের সঙ্গে আমরা নিয়মিত যোগাযোগেও রয়েছি।’
